
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ ঢাকতে অবশেষে প্রতারনার আশ্রয় নিলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মন। প্রতারণার পথ বেছে নিয়ে তিনি কি নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে পারবেন, নাকি আবারও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মত স্পর্শকাতর দপ্তরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চলেছেন!
জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি সাতক্ষীরার স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় “আশাশুনি শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্র সংস্কারের নামে অর্থ অপচয় ও লোপাট চেষ্টার অভিযোগ” শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজ প্রকাশের পর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় ওই শিক্ষা অফিসারের। তারপর নিজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যে প্রমান করতে প্রতারণার আশ্রয় নেন নিজ দপ্তরেরই প্রধান শিক্ষকদের সাথে।
আরো জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি আশাশুনির এতিম ও প্রতিবন্ধীদের ছেলে মেয়েদের কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের সম্মেলন শেষে বেশ কয়েক জন প্রধান শিক্ষককে ডেকে একটা সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও স্ব-স্ব স্কুলের নাম লিখতে বলা হয়। বসের নির্দেশ ভেবে কিসের জন্য স্বাক্ষর এ প্রশ্ন করার সাহস বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষকই দেখাননি বা দেখানোর চেষ্টা করেননি।
একজন প্রধান শিক্ষক কিসের জন্য এ সাদা কাগজে স্বাক্ষর জানতে চাইলে তাকে বলা হয় ‘ নিউজের প্রতিবাদ দিতে হবে’। কিন্তু গত ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একটি অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় “উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে ১৯ প্রধান শিক্ষকের বিবৃতি” শিরোনামে বিবৃতি আকারে একটি নিউজ দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর বিবৃতিদাতাদের তালিকায় থাকা ৮জন প্রধান শিক্ষককের সাথে মুঠোফোনে এ বিবৃতির বিষয় নিয়ে কথা হলে ৮জন প্রধান শিক্ষকই বলেন, তারা এ ধরনের বিবৃতি দেন নাই। যদি টিইও স্যার সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে এ ধরনের কাজ করে থাকেন তবে সেটা হবে প্রতারণার শামিল।
শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত নিউজের মুল কথা ছিলো, আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংস্কারের জন্য অধিকাংশ সংস্কার উপযোগি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বাদ দিয়ে অতিশয় কম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে আত্মসাতের চেষ্টা সংক্রান্ত। এছাড়া কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভিযোগের পাশাপাশি একটি সপ্রবি এর বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের কথা উল্লেখ ছিল।
কিন্তু তৈরীকৃত বিবৃতিতে শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে সাফাই গাওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের বিবৃতি নেয়া হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশ বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের জানার কথা না বা এ সংক্রান্ত বিবৃতি দেওয়ার এখতিয়ার তাদের আছে কি না সেটাও সংশয়াপন্ন।
শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগে ২৩ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে ওটা মোট ১৮ মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল। কিন্তু ১৮ মাসের বিদ্যুৎ বিল তো একবারে অনুমোদন হওয়ার কথা না। অবশ্য এ বিষয়টি গত জুন মাসে অনুমোদিত বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেখলেই সত্য মিথ্যা পরিস্কার হয়ে যাবে।
এদিকে যে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি একই মাসের ২৩ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল একবার ঠিকাদার থেকে এবং আর এক বার টিইও’র মাধ্যমে অনুমোদন করিয়ে সরকারি ফান্ড থেকে উত্তোলন করেছেন। বিবৃতিদাতাদের নামের তালিকায় যে স্কুলের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নাম নেই। উল্লেখিত স্কুল ছাড়াও আরও স্কুলের বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের অভিযোগ আছে এই অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে। পত্রিকায় কোথাও লেখা হয়নি বরাদ্দকৃত সপ্রবি এর প্রধান শিক্ষকদের কাছে টিইও বরাদ্দের টাকার ভাগ চেয়েছেন কিন্তু এ নিউজ লেখা পর্যন্ত প্রতিবেদককের কাছে প্রমান আছে। শিক্ষা অফিসার একটি কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষককের কাছে সংস্কারের পর অবশিষ্ট টাকা ফেরৎ চেয়েছেন। এছাড়া ফেরৎ না দিলে জুড়ে দেয়া হয়েছে কড়াকড়ি। তৈরীকৃত বিবৃতির এক কলামে লেখা হয়েছে “বিবৃতিতে শিক্ষকবৃন্দ বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।”
প্রকাশিত সংবাদে কোন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে কোন নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার না করা হলেও প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রধান শিক্ষকদের অভিযুক্ত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যেটা খুবই দুঃখজনক।
বিবৃতির অন্য এক কলামে লেখা হয়েছে “খবরে সরেজমিন পরিদর্শন ও যে বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তা সঠিক নয় ও বাস্তবতার সাথে কোন মিল না থাকায় আমরা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
যেহেতু এই কলামটি প্রতিবেদকের বিপক্ষে গেছে সেহেতু প্রতিবেদক খবরে প্রকাশিত স্কুল বলাইপুর সপ্রবি এর ভোট কেন্দ্র হিসেবে মৌলিক ভৌত ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্যের ভিডিও সংরক্ষিত রেখেছে।
ভোট কেন্দ্র হিসেবে জরুরি সংস্কার বরাদ্দে শুধু ‘বলাইপুর সপ্রবি’ নয় ‘বড় দূর্গাপুর সপ্রবি ছাড়াও এ ধরনের একাধিক সংস্কার অনুপোযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম আসলেও যে সকল সপ্রবি ভোট কেন্দ্র সংস্কার উপযোগি সেগুলোর অধিকাংশেরই নাম আসেনি।
টিইও হয়তো বলবেন নামগুলো উপর থেকে এসেছে। কিন্তু আমরা একাধিকবার এ সংক্রান্ত চাহিদাপত্র চাইলেও উনি দেখাতে পারেন নি বা দেখান নি। কবে দেখাতে পারবেন এ প্রশ্নেরও উনি জবাব না দিয়ে এড়িয়ে গেছেন।