• আজ- বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

কৃষক কার্ডের যাত্রা শুরু, কারা কখন কোথায় পাবেন?

রিপোর্টার: / ১৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মাথায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৪৬ জনই ভূমিহীন। বাকিদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক, ৮ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষুদ্র কৃষক, ১ হাজার ৩০৩ জন মাঝারি কৃষক এবং ৯১ জন বড় কৃষক রয়েছেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ক্রয়, ফসল বিক্রি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিমাসহ আরও বেশকিছু সুবিধা পাবেন। দরিদ্র কৃষকদের এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

কারা পাবেন ‘কৃষি কার্ড’

সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ। এসব কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে কার্ড দেওয়া হবে। ভাগগুলো হবে- ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় কৃষক।

এরমধ্যে পাঁচ শতকের কম জমি রয়েছে যাদের, তাদের ফেলা হচ্ছে ভূমিহীন ক্যাটাগরিতে। পাঁচ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক যেসব কৃষক, তারা পড়ছেন প্রান্তিক শ্রেণিতে।

এর বাইরে, কৃষকদের মধ্যে যারা ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক, তারা ক্ষুদ্র এবং যারা ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতকের মালিক, তারা মাঝারি কৃষকের শ্রেণিতে পড়ছেন।

অন্যদিকে, যাদের জমির পরিমাণ ৭৫০ শতকের বেশি, তাদের বড় কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তালিকায় এগিয়ে থাকছেন যারা

পহেলা বৈশাখে কার্ড বিতরণ করা বেশিরভাগই ভূমিচাষি বলে জানা গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কার্ড পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের সংখ্যা ২১ হাজার ১৪১ জন। তবে সংখ্যায় কম হলেও তালিকায় মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি এবং লবণচাষিদেরও নাম রয়েছে।

এর মধ্যে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন এবং দুগ্ধ খামারির সংখ্যা প্রায় ৮৫৫ জন।

এছাড়া কার্ড পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ জন মৎস্যজীবী এবং তিন জন লবণ চাষী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়।

যেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে

সরকার ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচিকে তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।

এর মধ্যে প্রথম ধাপ- প্রি-পাইলটিং বা প্রাক-পরীক্ষামূলক। এর আওতায় দরিদ্র কৃষকের সংখ্যা বেশি এমন ১০টি জেলার ১১টি উপজেলা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এ ধাপের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আগামী অগাস্ট মাসের মধ্যে শুরু হবে পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম।

পাইলাটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে তিন ধাপে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

প্রথম ধাপে চালু হচ্ছে যেসব এলাকায়

প্রথম ধাপ প্রি-পাইলটিংয়ে কৃষকের তালিকা তৈরি শেষে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে। তারমধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক একটি।

অন্য জেলাগুলোর কৃষি ব্লকের মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ও বোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া।

এছাড়া রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা ব্লক, মৌলভিবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকেও ১৪ই এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে আগামী ১৭ই এপ্রিল কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হবে।

কৃষক কার্ডে যেসব সুবিধা থাকছে 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ কৃষকদের তুলনায় কার্ডধারী কৃষকরা বাড়তি কিছু সুবিধা পাবেন। তার মধ্যে রয়েছে- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ প্রদানের সুবিধা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ।

এছাড়া মোবাইল ফোনে সহজে বাজারের তথ্য ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও কৃষি বিমা সুবিধার পাওয়া যাবে।

একইসঙ্গে, সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের পাশাপাশি কৃষিতে সরকারি বিভিন্ন ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থও কৃষকের জন্য পাওয়া সহজ হবে।

কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা (সরকারি) প্রণোদনা ও সেবা নেবেন, সংশ্লিষ্ট ডিলারের সরবরাহ করা মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।

এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বীজ বা সারের ব্যবসায়ী বা ডিলারের কাছে ডিজিটাল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন রাখার ব্যবস্থা করবে সরকার, যাতে কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।

কৃষক কার্ডে কত টাকা পাবেন?

কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে বছরে অন্তত আড়াই হাজার নগদ টাকা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। তবে কার্ডধারীদের সবাই এই সুবিধা পাবেন না। কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকরা এই সুবিধার আওতাধীন হবেন বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকভাবে যে ২২ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জনই ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক। ফলে তারা সবাই প্রতিবছর ওই টাকা পাবেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় এসব কৃষকদের কার্ডের বিপরীতে একটি করে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে প্রতিবছর টাকা পাঠানো হবে। ফলে কার্ডটি আদতে একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে ব্যবহার হবে।

কৃষকদের এই অর্থ সহায়তাসহ সব মিলিয় প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ব্যয় করার জন্য প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ