
নিজস্ব প্রতিনিধি: খুলনা বিভাগের স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভোল পাল্টানো লেবাসধারী সৈয়দ রেজাউল ইসলাম টুটুল, যিনি স্থানীয়ভাবে সুদখোর ‘গোল্ড টুটুল’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে জেলায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার, অপহরণ ও নির্যাতন ও সুদ ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন টুটুল। এই চোরাচালান নেটওয়ার্কের অধিকাংশরা তার পরিবার ও নিকট আত্নীয়-স্বজন। এমনকি স্বর্ণ পাচারে তার শ্বশুড় বাড়ীর আত্নীয়ও সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজস্ব একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী তৈরি করতে ইত্যাদি মটরস নামে একটি মটর সাইকেল শো’রুম করেছেন। শো’রুমের কর্মচারী ও কিছু স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এই বাহিনীর সদস্যরা তার নির্দেশে অপহরণ, নির্যাতন ও সুদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে ও ইত্যাদি মটরস শো’রুম স্বর্ণ চোরাচালানের সকল সিন্ডিকেটের স্থান বলে দাবি স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টুটুলের নেতৃত্বে তার বাহিনী জোরপূর্বক জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ, নির্যাতন, সুদের টাকার আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আধিপত্য বিস্তার লাভ করেছে। এমনকি এই সুচতুর সুদখোর গোল্ড টুটুল এক সময় সাতক্ষীরা জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক থেকেও বর্তমানে বিএনপি’র একটি সহযোগী সংগঠনে যোগ দেওয়ার চাউর আছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টুটুলের প্রভাবের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নিয়মিত টহল দেয় এবং বিরোধী পক্ষকে দমন করতে সক্রিয় থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে সব সময়। তবে, এই সুদখোর গোল্ড টুটুলের কেজি কেজি স্বর্ণ একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করলেও ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে গেছে সে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, টুটুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তারা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান চক্র দমনে কঠোর নজরদারি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
সাতক্ষীরার সচেতন মহল দ্রুত সুদখোর গোল্ড টুটুলকে গ্রেফতার পূর্বক বিচার ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।