
স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিলেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তার অনবদ্য হ্যাটট্রিকের সুবাদে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের আসরের প্রথম ম্যাচে জয় না পাওয়ার দীর্ঘদিনের আক্ষেপও ঘুচিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
২০২২ এর আগে প্রথম দুইবার আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে। সেই দুই আসরের ঠিক পরের বিশ্বকাপ আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের মুখ দেখেছিল আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে লিওনেল মেসির দল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারের আসরে শুরুটা জয় দিয়েই করল তারা।
বুধবার (১৭ জুন) কানসাস সিটিতে জে-গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মেসি বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পাস থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠে নামার পর হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেস ও অন্যদের উপস্থিতিতে আরও চাপ বাড়াতে থাকে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ফিরতি বলে সহজেই জাল খুঁজে নেন তিনি। এতে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও লুকা জিদানের কিছু দুর্দান্ত সেভে হ্যাটট্রিকের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ৭৬তম মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি মেসি। নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক।
এই তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। ফলে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে পেছনে ফেলে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছে যান। এখন আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসবেন মেসি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা দারুণ এক বার্তা দিয়েছে। আর মেসি প্রমাণ করেছেন, বয়স যতই বাড়ুক না কেন, বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো তার অটুট।