• আজ- রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
‘বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা অকেজো করে দিতে পারে ইরান’ হুঁশিয়ারি দুই ইরানি কর্মকর্তার: যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলা চালালে আমিরাতকে তছনছ করা হবে তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন: ‘জাহান্নামে স্বাগতম’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ইরান ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ এলএনজি আসছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন আমার এলাকায় ওয়াজ হবে, কীর্তন-বাউল গানও হবে: রুমিন ফারহানা এশিয়া কাপে ইতিহাস গড়ে সোনা জিতল বাংলাদেশ যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ডলার আয় করছে ইরান খামেনির শেষ ছবি প্রকাশ করল ইরান আশাশুনিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

লোকসানের শঙ্কা নিয়ে শেষ হলো দর্শনা চিনি কলের আঁখ মাড়াই মৌসুম

রিপোর্টার: / ৫৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যন্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চলতি আখ মাড়াই মৌসুমেও চিনি উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত না হওয়ার শংকা দেখা যাচ্ছে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ৬৮ কার্যদিবসের লক্ষমাত্রা থাকলেও আখের অভাবে ৬২ দিনে কার্যক্রম সমাপ্ত করতে হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ৬ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে মাড়াই মৌসুমের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চিনি করপোরেশনের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। চিনি উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় দর্শনার ঐতিহ্যবাহী এই চিনিকলে লোকসানের শঙ্কা এবারও কাটেনি।

কেরু চিনিকল হলেও মুনাফার মূল জোগান প্রায় প্রতি অর্থ বছরেই আসে ডিস্টিলারি থেকে। মদ থেকে মুনাফা আসলেও বছরের পর বছর চিনিতে কেরুর লোকসানের কারণ কী!

কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান কেরু এ্যন্ড কোম্পানির ২০২৫–২৬ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন।

অন্যদিকে, প্রতিবছর ডিস্টিলারি ইউনিটের অব্যাহত মুনাফা প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু চিনি উৎপাদনে ৬২ কোটি টাকা লোকসান গুনলেও ডিস্টিলারি থেকে ১৯০ কোটির বেশি মুনাফা অর্জিত হয়েছে। সব ইউনিটের আয়-ব্যয় সমন্বয় শেষে নিট মুনাফা ১২৯ কোটি টাকা, যা কেরুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিলো।

মূলত যে হারে চিনির দাম বেড়েছে, কৃষকরা তার তুলনায় আখ চাষ করে আশানুরূপ লাভ করতে পারছেন না। কৃষক যে টাকায় আখ বিক্রি করছেন, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে চিনি কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এমন বৈষম্যমূলক দাম নির্ধারণে একদিকে চিনিকলগুলোর সার্বিক যেমনি স্থবির হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে দিনদিন কৃষক আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

দেশের চিনিকলগুলোর এ অবস্থায় থাকার কারণে বাজার ছেয়ে গেছে আমদানি করা চিনিতে। আমদানি সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের প্রভাবে চিনির দাম এখনও আকাশছোঁয়া।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু এ্যন্ড কোম্পানি বর্তমানে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ফরেন লিকার, কান্ট্রি স্পিরিট, ডিনেচার স্পিরিট ভিনেগার, জৈব সার ও অন্যান্য শিল্পপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে টিকে আছে। তবে আখ উৎপাদন ও চিনি শিল্পকে লাভজনক করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ