
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: অস্ত্র মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ডাকাত ইয়ার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মঙ্গলবার(৩১ মার্চ) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সারোয়ার হোসেনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলি আদালত-২ এর বিচারক অর্পিতা আক্তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এছাড়াও তাকে মাদক, ছিনতাই ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীনকে পরিষদের মধ্যে হামলা ও তার মামার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন মারপিটের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ডাকাত ইযার আলী ৪৪)সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের পুত্র। সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা যায় ডাকাত ইয়ার আলীকে গত ২৭ মার্চ রাত সাড়ে ৭ টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রাম থেকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে ডাকাত ইয়ার আলীকে আলমগীরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে ১টি নাইন এমএম পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ২ টি ওয়কিটকি এবং ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার অপর সহযোগী বেনাদোনা গ্রামের আরিফুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বলকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি কালে কৃষ্ণনগর গ্রাম থেকে ১ টি মোটরসাইকেল ও ৮০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার করা হয়। অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা র্যাব- ৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের উপ-পরিচালক মনসুর আলী বাদী হয়ে গত ২৮ মার্চ ডাকাত ইয়ার আলী সহ অন্যান্যদের নামে ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনে কালিগঞ্জ থানার( জি আর- ৫৮/ ২৬ কালী:) মামলা দায়ের করেন।
ওই দিনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক অর্পিতা আক্তার তাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সরকার পক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন উপ-পরিদর্শক মাজেদ রহমান। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার কর্মকার সহ ৪ জন। আদালত সূত্রে আরও জানা যায় গত ২৭ মার্চ ইয়ার আলী ও বেনাদোনা গ্রামের আরিফুল ইসলাম উজ্জলের কাছ থেকে ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ২৮ মার্চ কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তাদের নাম উল্লেখ সহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১টি মামলা( জি আর- ৫৯ /২৬ কালি:) দায়ের করেন।
ওই মামলায় আরিফুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। কালিগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক শেখ মোহিদ বিল্লার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ইয়ার আলীকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
একইভাবে গত ৮ মার্চ বিকেলে কালীগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে ফাকা জায়গায় পশ্চিম মৌতলা গ্রামের বিকাশ এজেন্ট মোকলেসুর রহমানকে মাথায় রড দিয়ে ফাটিয়ে অস্ত্র ধরে ৩ লক্ষ ১১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার দায়ের করা ১০ মার্চের দস্যুতার মামলা( জি আর ৪১/২৬কালি:) ধারা ৩৯৪ ডাকাত ইয়ার আলী, পলাশ তরফদার, বিল্লাল গাজী ও আলোক গাজীকে পলাতক দেখানো হয়।
তবে এজহার বহির্ভূত কৃষ্ণনগর গ্রামের নুরুল হক সরদারের পুত্র শিমুল হোসেনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালত শিমুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে গত রবিবার শুনানি শেষে তাকে কারা ফটকে ১ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেন।
একইভাবে গত ২৮ মার্চ ইয়ার আলীকে ওই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানালে মঙ্গলবার বিচার তা মঞ্জুর করেন।
এছাড়া দাবি কৃত ২ লক্ষ টাকা চাঁদার টাকা দিতে অপরাগত প্রকাশ করায় কৃষ্ণনগর গ্রামের রফিকুল ইসলামকে স্থানীয় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ইয়ার আলী সহ ৮ জন ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর আটকে রেখে তার ফোনে ভাগ্নি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিনকে ফোনে ডাকা হয়।
রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ইয়ার আলীর নেতৃত্বে ৮ জন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে হামলা করার আগেই চেয়ারম্যান সাফিয়া পালিয়ে জীবন রক্ষা করে।
এ ঘটনায় গত ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর ইয়ার আলী সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজি, হত্যা চেষ্টা মামলা (জিআর ১৮৩/ ২৫ কালি:) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন গত ২৮ মার্চ ইয়ার আলীকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করলে মঙ্গলবার বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপকারীদর্শক মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে ইয়ার আলীকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আদালতের লিখিত আদেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতের গারদ থানা থেকে থানা হেফাজতে আনা হবে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মহিউদ্দিন জানান ইয়ার আলীকে কালিগঞ্জ থানার আরো ৩ টি মামলায় মঙ্গলবার আদালত থেকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির নেতা কেএম মোশারফ হোসেন হত্যা সহ একাধিক চুরি, ছিনতাই ,ডাকাতি, চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।