• আজ- শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
আশাশুনির মহেশ্বরকাটি মৎস্য সেটে ব্যবসায়ীর টাকা লোপাট দেবহাটা ও আশাশুনির শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার জাহানাবাজে ঘোড়দৌড় দেখতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি ট্রান্সফরমার চুরির ১৫ মাস পরও বিদ্যুৎহীন স্কুল দাবদাহে কষ্টে শিক্ষার্থীরা: জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ, উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো-দ. আফ্রিকা ওমান উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা, মার্কিন কূটনীতিককে তলব ভারতের হরমুজে দুই জাহাজে ইরানের হামলা সুন্দরবনের উপকূলে নদীপথে বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা: রুখে দিল বিজিবি

কালিগঞ্জে নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মালিক ও চিকিৎসকের শাস্তি দাবি

রিপোর্টার: / ১৫৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ঘোড়াপোতা মোড়ে অনুমোদনবিহীন কসাইখ্যাত নলতা ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের খন্ডকালীন চিকিৎসক নাসরিন নাহারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জাফরিন আক্তার নামে এক রোগী।

গত ২৮ জানুয়ারি সাতক্ষীরার সিভিল সার্জনের নিকট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২/৩/২০২৬ ইং তারিখে উ,স্মা,ক/কালী:/সাত/সা-১/২০২৬/২৫৪ নং স্মারকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ডাঃ ডালিয়া আক্তার সাথীকে প্রধান করে ও সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসমত জাহান সুমনাকে সদস্য করে ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার ঘোনাপাড়া গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী জাফরিন বেগমের প্রসূতি বেদনা উঠলে গত ১৭/১০/২৫ ইং তারিখে নলতা ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই সময় ২০ হাজার টাকা নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (গাইনি বিভাগ) সহকারী রেজিস্টার ডাঃ নাসরিন নাহার অনুমোদন বিহীন সীলকৃত অপারেশন থিয়েটারে সিজার কার্য সম্পন্ন করে। এরপর থেকে প্রসূতি জাফরিনের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হওয়ায় পুনরায় গত ১৭/১২/২৫ ইং তারিখে আবারো নিয়ে গেলে দ্বিতীয় বার অপারেশন করে।

এরপর আবারো ইনফেকশন হওয়ায় তার কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসা না দিয়ে কুকুরের মতন খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেয়। উপায়ান্তর না পেয়ে রোগী বাঁচাতে তার স্বামী ওমর ফারুক সাতক্ষীরা বুশরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি বিভাগের) ডাঃ শরিফুল ইসলামকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুনারায় অপারেশন করে পূর্বের ভুল অপারেশনের জন্য দায়ী করেন।

বিষয়টি নিয়ে দেবহাটা থানার ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান এবং ডাঃ কালিপদ কে সাথে নিয়ে নলতা ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মিলন হোসেনের নিকট জানালে তিনি এই বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।

তবে হাসপাতালের পরিচালক মিলন সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে রোগীর স্বামী ওমর ফারুকের নিকট সাড়ে ১৩ হাজার ৫ শ, টাকা চিকিৎসা খরচ বাবদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে ভুক্তভোগী জাফরিনের স্বামী ওমর ফারুক কোন টাকা পায়নি বা দেয়নি বলে সাংবাদিকদের জানান।

পরে বিষয়টি নিয়ে আমরা সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের নিকট অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের তদন্তে অভিযুক্ত ডাঃ নাসরিন নাহারকে বাঁচাতে তদন্ত কমিটির মিথ্যা প্রতিবেদনর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে বলে ভুক্ত ভোগিরা জানালেও এর কোন সত্যতা মেলেনি। এ প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের (গাইনি বিভাগ) রেজিস্টার ডাঃ নাসরিন নাহার এ প্রতিনিধিকে জানান, আমার ৮/১০ বছরের জুনিয়র ডাঃ কিভাবে আমার বিষয়ে তদন্ত করবে।

এক কথায় ভীত, প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ায় তদন্ত কমিটির প্রধান কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ডালিয়া আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি সেখান থেকে জেনে নিন। তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার কথা বলা হলেও তার স্বপক্ষে প্রতিবেদনে কোন কাগজ না থাকার প্রশ্নের কোন সদুত্তর মেলেনি।

অনুমোদন বিহীন উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বসে চেম্বারে রোগী দেখা এবং আবার ঐ হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা নিয়ে রয়েছে জনমনে নানান প্রশ্ন শঙ্কা। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন এ প্রতিনিধিকে জানান ক্লিনিক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিকট থেকে লক্ষ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে ডাঃ নাসরিন নাহার কে বাঁচানোর জন্য মনগড়া মিথ্যা প্রতিবেদন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের নিকট দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি এবং দ্বিতীয় বার অপারেশনের ঘটনা উল্লেখ করলেও ডাঃ নাসরিন নাহারকে বাঁচাতে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়েছে বলে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করলেও তার স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র বা ভুক্তভোগী পরিবারের নিকট কোন কথা না বলেই এমন মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এর আগেও এই হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় মোটা অংকের টাকা নিয়ে রোগী আটকে রেখে মেরে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য সুস্থ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ডাঃ নাসরিন নাহার এবং ক্লিনিক মালিক মিলনকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে এখনো পর্যন্ত নলতা ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের প্রকৃত মালিক কে সে বিষয়ে রয়েছে নানান গুঞ্জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ