
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সন্তান যখন নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, ঠিক তখনই পিতাকে কৌশলে অন্যত্র ডেকে নিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১১ জানুয়ারী) রাত ৮টার দিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
সে সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর এলাকার মৃত রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আব্দুল হালিম (৪৮)।
আহত আব্দুল হালিম বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মৃত্যুও সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবহাটার ৮শ বিঘার ব্রীজ এলাকা থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী আকরাম-কালুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী ছেলে রনিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই সন্তান কয়েকদিন ধরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে। এই ঘটনায় দেবহাটা থানায় একটি মামলা হয়।
রবিবার রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নুনগোলা গ্রামের আজিবর (৪৫) ও একই উপজেলার পূর্ব দহকুলা গ্রামের মাসুদ ওরফে কোপা মাসুদ কৌশলে হালিমকে কুখরালি এলাকার ইয়ামা মটর সাইকেল শো রুমের পাশে ফাঁকা মাঠে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে হঠাৎ করে কোপা মাসুদ, আজিবরসহ তার ছেলের নির্যাতনের মামলার ১ থেকে ১২ নম্বও পর্যন্ত সকল আসামীরা তাকে ঘিরে ফেলে কোপা, কুড়াল ও দা দিয়ে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।
হামলায় হালিম মারাত্মক আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গোংরাতে থাকে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের চিহ্ন রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে একদিকে সন্তানের জীবন-মৃত্যুর লড়াই, অন্যদিকে পিতার ওপর এমন বর্বও হামলায় পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মাসুদুর রহমান জানান, আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এঘটনায় সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে তিনি একটি মিটিং-এ থাকায় মামলা নম্বর দিতে পারেনি।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।