
শাহিন আলম: সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ীয়া আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, শিমুলবাড়িয়া মৌজার এস এ ১৩১ নং খতিয়ানের ৪০৪-৪০৮ দাগের ১১০ শতক জমির রেকর্ডিও মালিক মৃত জসিম সরদার ও ঝুড়ো সরদার, এসএ রেকর্ডিও মালিক জসিম সরদার মৃত্যুকালে ১ পুত্র ইসমাইল সরদার ও ১ কন্যা নবিজান বিবিকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে আর এস রেকর্ডের সময় ভুলবশত এস এ ১১০ শতক জমির মধ্য থেকে অংশ অনুযায়ী জসিম সরদারের সন্তানদের নামে ৫৫ শতক জমি রেকর্ড না হয়ে, ইসমাইল সরদার ও নবিজান এর নামে ১১৯ খন্ড খতিয়ানে ৪৭৫ দাগে ১৭ শতক জমি রেকর্ড হয় ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসমাইল সরদার পিতার ওয়ারশ সূত্রে ৫৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে শান্তিপূর্ণভাবে, বসত ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে এসেছিল, ইসমাইল সরদার মৃত্যুকালে ৪ পুত্র ২ কন্যা কে রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
বাপ দাদা পৈত্রিক সূত্রের ভিটা বাড়িতে মৃত্যু ইসমাইল সরদার এর সন্তান মুক্তাজুল ইসলাম গণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছিল। মুক্তাজুল ইসলাম গন যখন জানতে পারলো যে আমাদের দাদা জসিম সরদার এস এ রেকর্ড অনুযায়ী ৫৫ শতক জমি মালিক ছিল। ভুলবশত আমাদের পিতা ইসমাইল সরদার এর নামে আর এস রেকর্ডে ৫৫ শতক জমি রেকর্ড না হয়ে ১৭ শতক জমি রেকর্ড হয়েছে , বাকি ৩৮ শতক জমি রেকর্ড সংশোধনের জন্য ইসমাইল সরদার এর সন্তান মুত্তাজুলগণ সাতক্ষীরা বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে আদালতে ইং ৭/৪/২০২৩ তারিখে ২৩৮/২৩ একটি মামলা রুজু করেন ।
অন্যদিকে মোক্তাজুল সরদার ও তার বোন আয়মান তাদের পৈতৃক জমিতে দীর্ঘদিন যাবত ভোগদখল ও বসত ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছে। পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালী সিরাজুল খাঁ দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদের জন্য পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কয়েক দফা বসাবসি করেও ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান কোনো ফয়সালায় আসতে পারেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ সরদার ও ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লূৎফর রহমান বলেন, শিমুলবাড়ীয়া মৌজায় ১৩১ নং খতিয়ানে ৪০৪,৪০৮ নং দাগে মোট জমির পরিমান ১১০ শতক। ওই খতিয়ানের ওয়ারেশসূত্রে ৫৫ শতক জমি প্রাপ্ত হয়ে মুক্তাজুল ও আয়মান বিবি বসবাস করে আসছে।
অপর শরিকের নিকট থেকে সিরাজুল খাঁ জমি ক্রয় করে মুক্তাজুল ও আয়মানের বসতবাড়ির মধ্যে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান আরও বলেন – আমি শালিষ করে দিলে সিরাজুল খাঁ তা মানতে নারাজ।
এব্যপারে মুক্তাজুল ইসলাম জানান- আমরা কোন উপায় না পেয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে একই এলাকার ভূমি দস্যু সিরাজুল খাঁ গনদের নামে কয়েকটি মামলা দায়ের করি । মামলা নং ২৪৬৮/২২ তাং ১৩/১২/২২ মামলা নং ২৮৮/২৩ তাং৭/৪/২৩ মামলা নং ৫৯/২৪ তাং১৪/০১/২৪ ভূমিদস্যু সিরাজুল খাঁ ইং ৩/৩/২০২৬ তারিখে আদালতের ১৫০ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ,৩১/০৩/২০২৬ তাং বুধবার মুক্তাজুল বাড়ীতে না থাকার সুবাদে সিরাজুল খাঁ ১০/১২ জন লোক নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুক্তাজুল ও তার বোন আয়মানের বসত ঘরবাড়ি ভাংচুর করে এবং খুন জখমের হুমকি দেয়। এঘটনায় ভুক্তভোগীরা আতংকগ্রস্থ ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অতি দ্রুত ভূমিদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূল শাস্তি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আসু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ।