
নিজস্ব প্রতিনিধি, (খুলনা) ডুমুরিয়া: শেখ মাহতাব হোসেন, সাতক্ষীরা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, FAO এর অর্থায়নে পরিচালিত মৎস্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রিজিলিয়েন্ট ফিশারিজ এন্ড একুয়াকালচার ডেভলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (CBCRFAD) প্রকল্পের আওতায় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার ৫০ জন সিবিওভুক্ত চিংড়ি চাষি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সফর করেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই সফরে অংশগ্রহণকারী চাষিদের স্বাগত জানান সাতক্ষীরা সদর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (SUFO) মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম । সফরে দাকোপ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক-এর নেতৃত্বে চাষিরা অংশগ্রহণ করেন।
সফরের অংশ হিসেবে চাষিদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় আধুনিক ও লাভজনক চিংড়ি চাষ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর বটম ক্লিন মেথড (BCM) পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ এবং আধা-নিবিড় পুরুষ গলদা (Macrobrachium rosenbergii) একক লিঙ্গ চাষ প্রযুক্তি সরেজমিনে দেখানো হয়। বটম ক্লিন মেথড একটি আধুনিক চাষ পদ্ধতি, যেখানে ঘেরের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ, অব্যবহৃত খাদ্য ও মল নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে পানির গুণগত মান উন্নত রাখা হয়। এতে দ্রবীভূত অক্সিজেন বৃদ্ধি পায়, বিষাক্ত গ্যাস (H₂S ও অ্যামোনিয়া) নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং EMS, WSD ও EHP-এর মতো রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
একই সঙ্গে সীমিত পানি পরিবর্তনের মাধ্যমে পানির মান ব্যবস্থাপনা, এয়ারেটরের সঠিক ব্যবহার, ফিডিং ট্রে, প্রোবায়োটিক ও মোলাসেস ব্যবহারের কৌশল চাষিদের হাতে-কলমে দেখানো হয়।
পরিদর্শনকালে ঘের মালিক লিটু জাল টেনে চিংড়ি প্রদর্শন করেন এবং তার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ঘের ব্যবস্থাপনা, খাদ্য প্রয়োগ ও বর্জ্য অপসারণের বিভিন্ন দিক চাষিদের সামনে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে খুলনা জেলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদরুজ্জামান বলেন, “চাষিদের বিক্রয় তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৫ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় উৎপাদন ৪৫ গুণ বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব।” সফরের আরেক অংশে চাষিদের জন্য পুরুষ গলদা চাষের আধুনিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এতে দ্রুত বৃদ্ধি, উন্নত খাদ্য রূপান্তর হার (FCR), উচ্চ বাজারমূল্য এবং কম উৎপাদন ঝুঁকির কারণে পুরুষ গলদা চাষের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। চাষিরা এ পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া সফর শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বসহ একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার মৎস্য কর্মকর্তাগণ (DFO) উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
চাষিরা জানান, এই অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরের মাধ্যমে তারা বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা ভবিষ্যতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের আরও মাঠভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় সাতক্ষীরা জেলার জেলা মৎস্য অফিসার জি এম সেলিম উপস্থিত ছিলেন।