• আজ- শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
আশাশুনিতে মাদক কারবারী ও অনলাইন জুয়াড়ীদের গ্রেফতার দাবীতে মানববন্ধন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রবীন্দ্র জয়ন্তী উৎসব সম্মিলিত সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন খুলনায় যমজ কন্যা হত্যা মামলায় মায়ের যাবজ্জীবন ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর প্রাণ গেল, মোট মৃত্যু ৪৫১ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাফল্য চায় বিএনপি গরম নিয়ে আবহাওয়া অফিসের দুঃসংবাদ হালাল হলেও পশুর যেসব অংশ খেতে অপছন্দ করতেন নবীজি (সা.) মাত্র একটি ওষুধে বাঁচতে পারতেন ম্যারাডোনা, মৃত্যু মামলায় সাক্ষীর বিস্ফোরক সাক্ষ্য

কালের গর্ভে হারানোর পথে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য: অযত্নে ধ্বংসের মুখে কালিগঞ্জের ড্যামরাইল নবরত্ন মন্দির

রিপোর্টার: / ৫১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক ড্যামরাইল নবরত্ন মন্দির অযত্ন, অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীর এই অনন্য নিদর্শনটি বর্তমানে জীর্ণ ও কঙ্কালসার ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইতিহাসবিদদের তথ্যমতে, ১৫৮০-এর দশকে যশোরের প্রখ্যাত শাসক রাজা প্রতাপাদিত্য-এর পিতা রাজা বিক্রমাদিত্য এই মন্দির নির্মাণ করেন। নবরত্ন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মন্দিরটির ছাদে একসময় নয়টি দৃষ্টিনন্দন চূড়া ছিল, যা দূর থেকে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। চুন-সুরকি ও পাতলা ইটের নিখুঁত গাঁথুনিতে নির্মিত এই স্থাপত্য দক্ষিণবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মন্দিরটির পূর্বের জৌলুস এখন সম্পূর্ণ ম্লান। একসময়কার নয়টি চূড়ার অধিকাংশই ধসে পড়েছে। মন্দিরের দেয়ালে থাকা মূল্যবান টেরাকোটার অলঙ্করণ খসে পড়ছে এবং দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বট-পাকুড় গাছের শেকড় গজিয়ে মারাত্মক ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ায় দূর থেকে মন্দিরটি শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।

পর্যটকদের আক্ষেপ স্থানীয়দের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকরা এই প্রাচীন স্থাপত্য দেখতে এলেও যাতায়াতের সুব্যবস্থা, বিশ্রামাগার কিংবা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর সংস্কার বা সংরক্ষণ উদ্যোগ চোখে পড়ে না বলে অভিযোগএলাকাবাসীর।

সচেতন মহলের দাবি,ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিবিদদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ না করলে অচিরেই মন্দিরটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে এবং হারিয়ে যাবে বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ