• আজ- শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

এবার কিউবায় নজর ট্রাম্পের

রিপোর্টার: / ২৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, বর্তমান কিউবান নেতৃত্বের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও হাভানার বর্তমান অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি কিউবাকে এ অঞ্চলে ‘সন্ত্রাসবাদের অন্যতম বড় মদদদাতা’ বলেও অভিযোগ করেন।

রুবিও বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে সৎ থাকতে চাই। আমরা এখন যাদের মোকাবিলা করছি, তাদের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রুবিওকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না।

রদ্রিগেজ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে কিউবার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সামরিক আগ্রাসনের পরিবেশ তৈরি করছে। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে কিউবাকে ‘নিষ্ঠুর ও পদ্ধতিগতভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও তোলেন।

এদিকে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন নাগরিক হত্যার অভিযোগে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে মামলা করেছে, সেটি ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকরা তাকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে জানতে চাইলে রুবিও এ বিষয়ে কোনো কৌশল প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে কীভাবে এখানে আনব, সে বিষয়ে আমি আলোচনা করব না। যদি আমরা তাকে আনার চেষ্টা করি, তাহলে কেন আমি গণমাধ্যমের কাছে পরিকল্পনা ফাঁস করব?’

তবে মিয়ামিতে অভিযোগ ঘোষণার সময় ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, ওয়াশিংটন আশা করছে রাউল কাস্ত্রো স্বেচ্ছায় অথবা অন্য কোনো উপায়ে মার্কিন আদালতে হাজির হবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান অনেকটা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর নীতির মতো।

এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, যখন জ্বালানি সংকট, খাদ্য ঘাটতি ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দেশটির জনজীবন বিপর্যস্ত। কিউবার দাবি, মার্কিন অবরোধের কারণেই এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

রুবিও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং হাভানা তা গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, কিউবার সামরিক নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান জিএইএসএর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বোন আডিস লাস্ট্রেস মোরেরাকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রুবিওর মতে, মোরেরা ফ্লোরিডায় বসবাস করলেও হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে সহায়তা করছিলেন। বর্তমানে তাকে অভিবাসন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং নির্বাসন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আটক থাকবেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তার প্রশাসন মানবিক কারণে কিউবাকে সহায়তা করতে চায় এবং কিউবান-আমেরিকানদের নিজ দেশে ফিরে উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘গত ৫০-৬০ বছর ধরে অন্যান্য প্রেসিডেন্টরা বিষয়টি দেখেছেন। তবে মনে হচ্ছে এবার আমিই এটি সমাধান করব।’

এদিকে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চায়না ও রাশিয়া। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার বিরুদ্ধে ‘হুমকি ও জবরদস্তি’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আর ক্রেমলিনের দাবি, হাভানার ওপর ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগ ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে।

১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় চারজন নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখন থেকেই ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

যদিও দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে মতপার্থক্য কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবু একই সময়ে হোয়াইট হাউস কিউবার ওপর চাপ আরও জোরদার করেছে। চলতি মাসেই ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, আর্থিক ও নিরাপত্তা খাতের কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি, দ্বীপটির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ফ্লাইটও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ