• আজ- রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন

কালিগঞ্জে সু-সন্তান পুরস্কার বিতরণ ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলায় মুখর বন্দকাটি

রিপোর্টার: / ১৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: মেধা, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দকাটি গোলক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী সু-সন্তান পুরস্কার-২০২৫ প্রদান, সম্মাননা স্মারক ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠান। একইসঙ্গে দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা।

রবিবার (৩১ মে) বিকেল ৪ টায় সমাজসেবক সিরাজিয়া পারভেজ টুটুলের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আস্তা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিরাজিয়া পারভেজ টুটুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কালিগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম. হাফিজুর রহমান শিমুল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু। তিনি বলেন,বর্তমান সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও নানা সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্যে সু-সন্তানদের স্বীকৃতি প্রদান একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় আরও উৎসাহিত করবে।প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, যে সন্তান পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গর্বের কারণ হয়ে ওঠে, তাদের সম্মানিত করা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে অন্যরাও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আস্থা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফারজানা রহমান, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্ছু এবং কালিগঞ্জ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান পল্টু।

এছাড়াও বক্তব্য দেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল আলিম রাজ তাপস, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি মাওঃ ইউনুস আলী,ধর্মীয় আলোচক মাওঃ মিজানুর রহমান ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম, সিরাজুল ইসলাম, ইউপি সদস্যা লাইলি পারভীন, পূর্ণিমা রানী মণ্ডল, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল করিমসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক মূল্যবোধে বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষার্থী এবং ৯ জন সু-সন্তানদের সেলাই মেশিন সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে কয়েকজন উপকারভোগীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

পরে শুরু হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। লাঠিয়ালদের চমৎকার কসরত, নিপুণ কৌশল ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা মাঠজুড়ে সৃষ্টি করে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী দর্শক মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন বাংলার শতবর্ষী এই লোকজ ঐতিহ্য।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজসেবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সু-সন্তানদের সম্মাননা, অসহায়দের সহায়তা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণের এই মহতী উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।মানবিকতা, মেধার স্বীকৃতি ও ঐতিহ্যের মিলনমেলায় বন্দকাটির এই আয়োজন হয়ে উঠেছিল এক অনন্য সামাজিক উৎসব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ