
দীপঙ্কর বিশ্বাস: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেবহাটার অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ আইসক্রিম ফ্যাক্টরি।
কোনো প্রকার লাইসেন্স, বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন কিংবা স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছাড়াই এসব কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে নিম্নমানের আইসক্রিম। বিশেষ করে তীব্র গরমে স্কুলগামী শিশু ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে এই ক্ষতিকর আইসক্রিমগুলো বাজারে ছাড়া হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে অত্যন্ত নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে। ড্রেনের পাশে বা অস্বাস্থ্যকর অবহেলার মধ্যে খোলা পাত্রে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিমের মিশ্রণ।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এসব আইসক্রিমে দুধ বা আসল ফলের কোনো অস্তিত্বই নেই। তার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে,
টেক্সটাইল রং।
অপরিষ্কার পানি কোনো ফিল্টারিং ছাড়াই সরাসরি ট্যাপ বা নলকূপের দূষিত পানি। সুগন্ধি বাড়াতে মাত্রাধিক রাসায়নিকের ব্যবহার।
টার্গেট যখন অবুঝ শিশুরা কারখানাগুলোর নিজস্ব কোনো ব্র্যান্ডিং বা লেবেল থাকে না। দেশের নামী-দামী ব্র্যান্ডগুলোর লোগো ও প্যাকেট হুবহু নকল করে আকর্ষণীয় মোড়কে এসব আইসক্রিম বাজারজাত করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সামনে ভ্রাম্যমাণ হকারদের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে (৫ থেকে ১০ টাকায়) এই বিষাক্ত আইসক্রিম বিক্রি করা হচ্ছে, যার মূল ক্রেতা নিষ্পাপ শিশুরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আইসক্রিম খাওয়ার ফলে শিশুরা প্রতিনিয়ত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, এই রাসায়নিক মিশ্রিত আইসক্রিম খেলে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়রিয়া, জন্ডিস, আমাশয়, পেটে ব্যথার মতো রোগ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শিশুদের কিডনি বিকল হওয়া, লিভারের ক্ষতি এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের সঠিক তদারকি ও নিয়মিত অভিযানের অভাবেই এই অবৈধ ব্যবসা দিন দিন ডালপালা মেলছে। মাঝে মাঝে দু-একটি মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) জরিমানা করলেও কিছুদিন পর আবারও গোপনে চালু হয় এই কারখানাগুলো।
জনসাধারণের দাবি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং এই নীরব ঘাতক ব্যবসার কবল থেকে মুক্তি পেতে বিএসটিআই ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অবিলম্বে এসব অবৈধ আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সিলগালা করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, অবৈধভাবে আইসক্রিম ফ্যাক্টরি পরিচালনা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, (২৪ মে) র্যাব- ৬ এর সিপিসি ১ এর ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ যিয়াদের নেতৃত্বে একটি আভিজনিক দল উত্তর সখিপুর শিলা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিএসটিআই অনুমোদন না থাকায় এবং আইসক্রিমে ক্ষতি কারক ক্যামিক্যাল মেশানোর অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪১ ও ৪২ ধারা মোতাবেক ব্যবসায়ী সুজিত বিশ্বাসকে ১ লক্ষ টাকা ও একই এলাকায়র মদিনা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে একই অপরাধে মদিনা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি পরিচালক আব্দুল খালেকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। এ সময় উভয় ফ্যাক্টরি বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করেন।