• আজ- রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ

অধিকাল ভাতা চালুর দাবিতে ভোমরা স্থলবন্দরে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

রিপোর্টার: / ২২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

গাজী হাবিব: অতিরিক্ত কাজের বিপরীতে অধিকাল ভাতা (ওভারটাইম) চালুর দাবিতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্মচারী কর্তৃপক্ষের পক্ষে গঠিত দাবি আদায় পরিষদ।

 

রবিবার (১০ মে) সকালে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। একইসাথে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণাও দেওয়া হয়।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস সময়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য অধিকাল ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী বিভিন্ন অফিস আদেশ, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত এবং শ্রম আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় কাজের বিপরীতে ভাতা প্রদানের বিধান বিদ্যমান রয়েছে।

 

তারা উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বাস্তবকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাফিক পরিদর্শক ও ওয়্যারহাউজ সুপারগণকে প্রচলিত বিধি মোতাবেক অধিকাল ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৫ আগস্ট জারি করা এক অফিস আদেশে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্থলবন্দরসমূহে কর্মরত কর্মচারীদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা এবং মাসে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অধিকাল ভাতা প্রদানের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি দেওয়া হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, প্রকৃত কাজ ও দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতেই এ ভাতা প্রদান করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, স্থলবন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে কর্মচারীদের প্রায়ই অফিস সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, কম্পিউটার অপারেশন, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও পণ্য ছাড় কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মচারীদের অতিরিক্ত সময় কাজ ছাড়া বন্দর পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন ও গেজেটের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন, শ্রম আইনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের বিধান থাকলেও অধিকাল ভাতা প্রদান সাপেক্ষে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো যেতে পারে। একইসাথে অতিরিক্ত সময় কাজের ক্ষেত্রে শ্রমিকের সম্মতি, নির্ধারিত বিশ্রাম ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থলবন্দর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব বিধান পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ ফিদা হাসান, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ ওসমান গনি ভূঁইয়া, মোঃ মানিকুর রহমান, মোঃ নাজমুল আহসান, মোঃ সোহেল সোনার (ট্রাফিক পরিদর্শক) এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা (কম্পিউটার অপারেটর) প্রমুখ।

 

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এ যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ