
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতা এলাকায় অবস্থিত নলতার ঘোষ ডেয়ারি মিষ্টির কারখানায় গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জবরদখলের অভিযোগে থানায় মামলা না নেওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন রাজেশ কুমার ঘোষ।
তিনি বলেন- কালিগঞ্জের নলতায় অবস্থিত আদি ঘোষ ডেয়ারির কারখানায় গভীর রাতে খোকন আমিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভাংচুর, লুটপাট করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আহছানিয়া রেসিডেন্সিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ঘোষ ডেয়ারি কারখানায় একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় কারখানায় থাকা অসিত কুমার, রাজেশ কুমার ও রাকেশ কুমারকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। পরে কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ভেতরে থাকা শ্রমিক ও কর্মচারীদের জিম্মি করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি, প্রায় ১৭৫ বস্তা চিনি এবং ২ থেকে ৩ ড্রাম সয়াবিন তেলসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে যায়। এতে আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় একই এলাকার খোকন আমিন ওরফে মাহফুজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কারখানা ও জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ পাল্টা দাবি করে জানিয়েছে, তারাই হামলা ও জবরদখলের শিকার হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা ভুগছে রাজেশ এর পরিবারসহ সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, ঘটনার পর থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযোগের সাথে সুনির্দিষ্ট তদন্তসংক্রান্ত যথাযথ তথ্য না থাকায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি।