
নিজস্ব প্রতিনিধি: কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং চালানোর প্রতিবাদ করা নিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এক শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় সজিব বায়োলজি একাডেমি নামের কোচিং সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
অবিলম্বে কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডাঃ সজিবকে গ্রেপ্তারসহ কোচিং সেন্টারটি বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজারবাগান সরকরারী কলেজ রোডে এ বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করে রাখে। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা এসময় কোচিং সেন্টারটি ভাংচুরের চেষ্টা করে এবং সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে প্রায় একঘন্টা যাবত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
পুলিশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডাঃ সজিবের কার্যালয় থেকে একটি হার্ড ডিস্ক ও একটি কম্পিটউটার জব্দ করেন। এছাড়া কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কোচিং সেন্টারের পরিচালক সজিব এই সরকারি কলেজেই পড়েছে। সরকারী কলেজের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের হাত ধরে শত শত শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শিখে এখান থেকে বেরিয়েছেন। অথচ এই শিক্ষকের সাথে কোচিং সেন্টার পরিচালক ডাঃ সজিব যে আচরন করেছে তা খুবই দুঃখজনক। শিক্ষকদের সাথে এমন আচরণের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারসহ কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং বন্ধের জোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত ঘোষ জানান, শিক্ষকদের সাথে এমন আচারণ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। যে কারনে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কোচিং সেন্টারটি সীলগালা করা হয়েছে এবং একটি হার্ড ডিস্ক এবং একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসেম জানান, এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলো সজিব। কলেজের সামনে কোচিং চালালেও তাকে কিছু বলা হয় না। কিন্তু এক শিক্ষকের হুমকি দেওয়ার কারনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছে।
উল্লেখ্য: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে সজিব বায়োলজি একাডেমি নামের কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন ডাঃ সজিব। তিনি কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং সেন্টারটি পরিচালনা করায় সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদের বিষয়টি অবগত হয়ে ডাঃ সজিব মোবাইল ফোনে শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে অশালীন আচরণ করেন। ওই কথোপ কথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডাঃ সজিবের গ্রেপ্তার এবং কোচিং বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সাধারন শিক্ষার্থীরা।