• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল

রিপোর্টার: / ১৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার শিবপুর ইউনিয়নের অসংখ্য বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পাহাড় সম অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে শওকত পটল পরিবার। শত শত পরিবারের জীবিকা নির্বাহের কর্তা ব্যক্তি দেড় দশকেরও অধীককাল ধরে বিদেশ বিভুইয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে। চাঁদার টাকা না পেলেই শওকত-পটল গং মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক নাশকতা মামলা দিত প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে ভয়াবহ এই চিত্র উঠে এসেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত ও তার আপন সহদর মাহবুবর রহমান পটল ওরফে ইমন দেড় দশক ধরে বিএনপি জামায়াতের সক্রিয় নেতা কর্মীদের জন্য ছিল মূর্তিমান আতঙ্ক। তাদের ছিল না নিজস্ব কোন ব্যবসা বাণিজ্য। আদম পাচার, মাদক ব্যবসা ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি করতো শওকত-পটল।

 

বিএনপি জামায়াতের সক্রিয় নেতাকর্মীদের চাঁদার টাকা নির্দিষ্ট করে তা প্রদানের জন্য সময় বেঁধে দিত শওকত-পটল সহদর। বরখেলাপ হলেই নাশকতা- রাষ্ট্রদোহসহ বিষ্ফোরকদ্রব্য আইনের সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হত প্রতিপক্ষ বিএনপি জামায়াতের সক্রিয় নেতাকর্মীদের।

 

৫ই আগষ্টের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় শওকত-পটল গং। পাশাপাশি বিদেশ বিভুইয়ে আত্নগপোনে থাকা বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা ফিরে আসে স্বজনদের কাছে। শওকত-পটলের রোষানলে পরা ক্ষতিগ্রস্থদের সঙ্গে সরজমিনে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বর্ণনা করেন তাদের দেড় দশকের দুঃখ দূর্দশার বাস্তব চিত্র। শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাসুম বিল্লাহ এই প্রতিবেদককে জানান, তার বিরুদ্ধে ২০টি নাশকতা রাষ্ট্রোদ্রহসহ বিষ্ফোরক আইনে মামলা হয়। বছরের পর বছর তাকে স্বজনদের ছেড়ে বাইরে থাকতে হয়। বাইরে থাকাকালীন কোম্পানীতে চাকরী করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

মাসুম বিল্লাহ যোগ করে বলেন, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাজুমুজ্জামান তাজুর বিরুদ্ধে ৫টি নাশকতার মামলা হয়। সেও বাড়িতে থাকতে পারতো না পুলিশের ভয়ে। চাঁদার টাকা না পেলেই বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার গায়েবি মামলা সাজাতো শওকত-পটল সহোদর। তারা স্থানীয় থানা পুলিশকে ব্যবহার করতো। তাদের রোষানলে থাকা বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা শওকত-পটলের কাঙ্খিত চাঁদার টাকা দিতে পারলেই কেবল নিরাপদ থাকতো। যারা চাঁদার টাকা দিতে পারতো না তাদের ঘাড়ে নেমে আসতো গায়েবি সব নাশকতার মামলা। পুলিশের সাথে যোগ সাজসে শওকত-পটল দেড় দশক ধরে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি ছাড়া করেছে।

 

শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাজুমুজ্জামান তাজু এই প্রতিবেদককে জানান, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ৫টি নাশকতার মামলা হয়। মামলা হলেই তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতেন। নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনে থাকতেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই সময় তিনি পুলিশের দাবড়ানিতে বাড়িতে ঘুমাতে পারতেন না। বর্তমানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

সাতক্ষীরা এডিশনাল পিপি এড. কামরুজ্জামান ভুট্টো এই প্রতিবেদককে জানান, মাহবুবর রহমান পটল ওরফে ইমন ২০২৩ সালে ঘোনা গ্রামের কওসার, শাহাদাত, রাশিকুর, শংকরসহ ৬জনের নিকট থেকে ১৮ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে সিঙ্গাপুর পাঠানোর নামে। পরে ৬ জনকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার নামে ঢাকায় নিয়ে একটি হোটেলে রেখে মোবাইল বন্ধ করে পটল পালিয়ে যায়। পরে ভিটেমাটি খোয়ানো ৬ জন ঢাকার ইমরানের সহায়তা নিয়ে সিঙ্গাপুরে যায়। এক্ষেত্রে এড. কামরুজ্জামান ভূট্টোকেও জমি বিক্রি করে প্রতারিতদের পাশে দাঁড়াতে হয় সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য। কিছুদিন পর আত্নগোপনে থাকা পটল জাপানে চলে যায়।

 

৩ বছর পর জাপান থেকে ফিরে এসে পটল মাদক ব্যবসা শুরু করে। এড. কামরুজ্জামান ভূট্টো নাগালে পেয়ে পটলকে আটকে ফেলে। লুটে নেওয়া ১৮ লক্ষ টাকা থেকে মাত্র ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে হাতে পাঁয়ে ধরে পটল সে যাত্রায় রেহাই পায়। কিছুদিন পর ফোন করে এড. কামরুজ্জামান ভূট্টোকে পটল অনুরোধ করেন, সাতক্ষীরায় থাকা তার একটি কাপড়ের ব্যাগ পরিবহনযোগে যেন ঢাকায় পৌছে দিতে। এড. কামরুজ্জামান ভূট্টো ব্যাগটি তার আত্নীয়ের সহযোগীতায় পরিবহনযোগে ঢাকায় পৌছে দেন পটলের কাছে। পরবর্তীতে আত্নীয়ের নিকট থেকে এড. কামরুজ্জামান ভূট্টো জানতে পারেন কাপড়ের ওই ব্যাগে বিপুল পরিমান ইয়াবা ছিল।

 

এব্যাপারে শওকত-পটলের সাথে এই প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ হলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ