• আজ- সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজে চাকুরী স্থায়ীকরণের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষক আক্তারুল

রিপোর্টার: / ১১০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজে চাকুরী স্থায়ীকরণের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ওই স্কুলের শিক্ষক আক্তারুল ইসলাম।

পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন কর্তৃক কোন ধরনের নোটিশ বা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই চাকুরি থেকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় স্কুলের সামনে চাকুরী ফিরে পেতে এ আমরণ অনশনে বসেছেন ওই শিক্ষক।

তার লিখিত অভিযোগের লিফলেট উল্লেখ করেছেন যে, আজ আমি এখানে ‘অবস্থান কর্মসূচি’ পালন করছি ‘সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ’ নামক উক্ত প্রতিষ্ঠানটির কিছু জালিয়াতির আমলনামা পেশ করার জন্য, আমার সাথে ঘটে যাওয়া জুমুল-নির্যাতন ও প্রচলিত আইন বিরোধী অবস্থানের সম্পর্কে জনগণকে অবগত করার জন্য ও সঠিক প্রতিকার পেতে এবং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অতি সামান্য একজন শিক্ষক হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে জরুরি কিছু আবেদন পেশ করার জন্য।

প্রথমে একটু বলি ‘সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল’ বলার পরিবর্তে ‘সাতক্ষীরা ব্যক্তিগত স্কুল’ বললে এটার নামের সাথে কাজের মেলবন্ধন হবে। কারণ প্রতিটি শিক্ষককে একজন ব্যক্তির নির্ধারিত সিস্টেমে পাঠদান, ব্যক্তির ইচ্ছামতো নম্বর প্রদান, চলন,বলন সবই তার ইশারায় হবে; এমনকি স্কুলে সূর্যের আলো পৌঁছাবে কি-না সেটাও ব্যক্তি নির্ধারণ করেন। তাই আমার মতে ‘পাবলিক’ শব্দটি ব্যবহার করা অযৌক্তিক এবং নৈতিক অধিকার তাদের নেই।

যদিও (রেজিষ্ট্রেশন অফ প্রাইভেট স্কুল অর্ডিনেন্স) ১৯৬২ অনুযায়ী কোন ধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে, নাম ব্যবহারে ভোক্তা/জনগণের বিভ্রান্তি কথা বিবেচনায় নৈতিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেছি। কেননা আমাদের প্রচলিত আইনে বলা আছে, যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তার নাম দিয়ে জনসাধারণকে বোঝায় যে এটি সরকারিভিত্তিক বা সরকারি অনুমোদিত, তাহলে অভিযোগ/প্রশাসনিক নজরপাত হতে পারে। তাছাড়া, স্কুলের নামের শিরোনামে কলেজ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যা বিভ্রান্তিকর। কারণ এখানে কোন কলেজ সেকশন নেই।

প্রতিষ্ঠানটির কিছু জালিয়াতি এবং বেআইনি কাজ হলোঃ 
লোক দেখানো ভালো ফলাফলের জন্য ভালো শিক্ষার্থীদের নিজের স্কুল থেকে রেজিষ্ট্র্রেন করানো হয় এবং অপেক্ষাকৃত খারাপ /অকৃতকার্যের সম্ভাবনা আছে এমন শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুল (লাবসা এমাদুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়) থেকে রেজিষ্ট্রেশন করানো হয় যা স্পষ্ট জালিয়াতি।
প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও অধ্যক্ষ পদ নিজের দখলে রাখা। যদিও, ২০০৮ এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক আইন অনুযায়ী মালিক এবং অধ্যক্ষ দুটোই ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে এবং একটি বডির মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিলো। শিক্ষাজীবন চলমান এমন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ক্লাস পরিচালনা করা।

শুধুমাত্র অভিভাবকদের বোকা বানিয়ে এবং সাময়িক সন্তুষ্টি খুশি করার জন্য শিক্ষকদের বাধ্য করে জোরপূর্বক আকাশছোঁয়া নম্বর পাইয়ে দেওয়া, মালিকের নির্দেশনায় শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিক্ষার্থীদের সকল ধরণের পরিক্ষায় সহযোগিতা করানো, এমনকি নির্ধারিত সময়ে পরিক্ষা না দিতে পারলে বা প্রশ্ন লিখতে অপারগ হলে অনৈতিক ও অবারিত সময় দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে গাইডের সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত করা ইত্যাদি সহ নানান প্রকারের জালিয়াতি কারখানা তৈরি করা সহ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জাতি ধ্বংসের সাথে প্রতিষ্ঠানটি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।

পাবলিক শব্দটির ফাঁদে, পরীক্ষা নামক টাকা ইনকামের মেশিনে, সেশন চার্জ এবং আকাশচুম্বী বেতনে শতশত শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের নাভিশ্বাস অবস্থা। অনেক শিক্ষার্থীকে আমার চোখের সামনে কাঁদতে দেখেছি।

বেশিরভাগ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দিনে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষকদের অফিস করতে বাধ্য করা। তাছাড়া সরকারি ছুটির দিনেও ক্লাস চালু রাখেন এবং শিক্ষকগণ অনুপস্থিত থাকলে বেতন থেকে ১ দিনের টাকা কর্তন করে থাকেন। যদিও আমরা জানি,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ “সরকারি/বেসরকারি” স্কুল ও কলেজের জন্য একক ছুটি-তালিকা জারি করে এবং সেটি শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি-উভয় শ্রেণির জন্যই মেনে চলা কর্তব্য।

তবে, এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ বা কথা বলার চেষ্টা করলে মালিক জবাব দেন যে, “এটা আমার প্রতিষ্ঠান এখানে আমার ব্যক্তিগত আইন চলবে, আমি বসতে বললে বসবি এমনকি শুইতে বললে শুবি….এটাই তোদের কাজ।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ