• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

আজ ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস, স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও নেই কোন স্মৃতিসৌধ

রিপোর্টার: / ১২৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ৭ ডিসেম্বর, গৌরবোজ্জ্বল সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয়। সেই দিন সাতক্ষীরার প্রতিটি রাস্তাঘাট, গ্রাম-বাজার ও সীমান্ত এলাকা আনন্দমুখর হয়ে উঠেছিল। থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল ও এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করেন এবং স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে দেন। সন্তান হারানোর বেদনা ভুলে মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সাতক্ষীরার মাটিতে অন্তত ৫০টির বেশি সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, বহু সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন। ২ মার্চ পাকিস্তানবিরোধী মিছিলে রাজাকারদের গুলিতে শহীদ হন আব্দুর রাজ্জাক। তিনিই ছিলেন সাতক্ষীরার প্রথম শহীদ। এরপর সাতক্ষীরার তরুণেরা সংগঠিত হয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়। ব্যাংক থেকে অর্থ, অলংকার ও অস্ত্র সংগ্রহ করে তারা যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। অষ্টম ও নবম সেক্টরের অধীনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ নেয়ার পর ২৭ মে ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়।

সাতক্ষীরার টাউন শ্রীপুর, বৈকারী, খানজিয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় শহীদ হন ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২৯ নভেম্বর পাক বাহিনীকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে কেন্দ্রীয় পাওয়ার হাউসে টাইম বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে হানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর রাতে বাঁকাল, কদমতলা ও বিনেরপোতা ব্রিজ ধ্বংস হয়। ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়, শহরের প্রতিটি প্রান্তে উদযাপন হয় মুক্তির উল্লাস।

 

সাতক্ষীরাবাসী এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, শহীদদের আত্মত্যাগের চিহ্ন ধরে রাখতে শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, এটি শুধু স্থাপনা নয়, বরং গৌরব, ইতিহাস এবং প্রতিরোধের প্রতীক, যা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শেখাবে।

আজকের দিনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন রেখেছেন। এর পাশাপাশি সাতক্ষীরা সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে সন্ধ্যায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে শহীদদের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ