• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

চুয়াডাঙ্গা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সরকারি গুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

রিপোর্টার: / ১৫১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যবসায়ী ও দালালদের কাছ থেকে নিম্নমানের ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন সরকারি খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে দেখা যায়, সেখানে কৃষকের উপস্থিতি কম। অধিকাংশ সময় ব্যবসায়ী ও দালাল শ্রেণীর লোকজনই গুদাম এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের পাশাপাশি মধ্যস্থভোগীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে ৪১ টন ধান কেনার বরাদ্দ ছিলো। সেই অনুযায়ী গত বছরের ২০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৫১ টন ধান কেনা হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বরাদ্দের বাইরে এত বিপুল পরিমাণ ধান কীভাবে কেনা হলো।

ধানের বস্তায় দেখা যায়, এক মুঠো ধানের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিটা ধান রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ধানের আদ্রতা ১৪ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রতি মণ ধানে ১ কেজি করে অতিরিক্ত ঢলন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ তিন টন ধান কেনার কথা থাকলেও দালালদের মাধ্যমে একাধিক কৃষকের নামে অনেক বেশি ধান নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সদর এলএসডি খাদ্য পরিদর্শক মিরাজ হোসাইনের কাছে অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কৃষকদের ধান ক্রয়ের রশিদ ও চিটাযুক্ত ধানের নমুনা দেখানোর অনুরোধ করা হলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, এগুলো দেখাতে বাধ্য নন। পরে এ প্রতিবেদককে নগদ অর্থের লোভ দেখিয়ে পজিটিভ নিউজ করার অনুরোধ করেন। তিনি আরোও বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ ৪১ টন থাকলেও মুক্ত ঘোষণার পর প্রতি কেজি ৩৪ টাকা দরে মোট ৬৫১ টন ধান কেনা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক ও ব্যবসায়ী জানান, ধান নেওয়ার সময় প্রতি মণে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দিতে হয়েছে। সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রয় করতে হলে কিছু খরচ দিতে হয়। ধান মানসম্মত হলেও বিভিন্ন অজুহাতে রিজেক্ট দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে।

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসান মিয়া বলেন, সারা বাংলাদেশের জন্য ধান ক্রয় এবার উন্মুক্ত করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার অন্যান্য উপজেলার থেকে সদর উপজেলায় কম ধান কেনা হয়েছে। ধান কেনা হয়েছে নিয়মের মধ্যে থেকেই। কোন নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ধান ক্রয় হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তিনি জেলার বাইরে অবস্থান করছেন। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয় এবং কোনো তথ্য গোপন করার সুযোগ নেই। কৃষকদের ধান বিক্রির রশিদ ও অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে দেখার সুযোগ অবশ্যই রয়েছে।

(পরের পর্বে দেখবেন এলএসডি ফুড ইন্সেপেক্টর মিরাজ হুসাইনের দূর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ