• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

আলজাজিরার বিশেষ প্রতিবেদন: ভোটে জামায়াত কতটা চমক দেখাতে পারে?

রিপোর্টার: / ১১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের ফরিদপুরের এক ব্যাংকার আবদুর রাজ্জাকের বয়স ৪৫ বছর। জীবনে এই প্রথম তিনি মনে করছেন, যে দলকে তিনি সমর্থন করেন, সেই দল ক্ষমতায় আসার বাস্তব সুযোগ পেয়েছে। নিজ এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রচার চালাতে গিয়ে তিনি মানুষের মধ্যে ঐক্য দেখছেন। তার ভাষায়, ‘আমি যাদের সঙ্গে কথা বলছি, তারা সবাই জামায়াতের পক্ষে ভোট দিতে একমত’।

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এটাই প্রথম নির্বাচন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে নির্বাচন এখন দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে। একদিকে আছে বিএনপি ও তার নেতৃত্বে কয়েকটি দলের ঐক্য। অন্যদিকে আছে জামায়াতের নেতৃত্বে এনসিপিসহ কয়েকটি দলের জোট।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার অনলাইন সংস্করণের একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। বিশেষ প্রতিবেদনটি লিখেছেন আলজাজিরার ঢাকা সংবাদদাতা মাসুম বিল্লাহ।

আলজাজিজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুর রাজ্জাকের আত্মবিশ্বাসের পেছনে আছে সাম্প্রতিক জরিপ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ডিসেম্বরের জরিপে বিএনপির সমর্থন ধরা হয়েছে ৩৩ শতাংশ। জামায়াতের সমর্থন ছিল ২৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের কয়েকটি সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির সমর্থন ৩৪.৭ শতাংশ। জামায়াতের সমর্থন ৩৩.৬ শতাংশ।

জামায়াত জোট জিতলে সেটি হবে বড় পরিবর্তন। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনে দলটি কঠোর দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। দলটি নিষিদ্ধ ছিল। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয় বা কারাগারে রাখা হয়। অনেক নেতা-কর্মী গুম বা হেফাজতে নিহত হন।

এই দমন-পীড়নের সূত্রপাত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে। এই ট্রাইব্যুনাল ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার গঠন করে। সেখানে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার হয়। পরে সেই একই ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলনে দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়।

শেখ হাসিনা এখন ভারতে আছেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চাইলেও ভারত এখনো রাজি হয়নি।

জামায়াতের পুনরুত্থান শুরু হয় ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর। দলটির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। শীর্ষ নেতারা মুক্তি পান। দলটি আবার সংগঠিত হয়। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘হাসিনার সময় আমাদের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অনেককে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন মানুষ আমাদের কষ্ট বুঝছে। তারা আমাদের সৎ মনে করছে। তাই তারা আমাদের ভোট দেবে।’

১৯৪১ সালে সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালে দলটি পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গে জোট করে জামায়াত ২০০১ সালে সরকারেও ছিল।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফেরার পর আবার জামায়াতের দুর্দিন শুরু হয়। যুদ্ধাপরাধের মামলায় দলটির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়। এতে দলটি প্রায় ১৫ বছর কোণঠাসা ছিল।

বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বে আছেন শফিকুর রহমান। নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাহের বলেন, ‘৫৫ বছরে মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখেছে। অনেক মানুষ হতাশ। তারা নতুন শক্তি চায়।’

তাহেরের দাবি, জামায়াতের সমর্থক প্রায় দুই কোটি। নিবন্ধিত সদস্য প্রায় আড়াই লাখ। তিনি বলেন, ‘জনগণের আগ্রহ বাড়ছে। এই ধারা থাকলে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারি।’

তবে জামায়াতের উত্থানে উদ্বেগও আছে। অনেকের আশঙ্কা, দলটি ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন চালু হতে পারে। নারীর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জামায়াত এসব অভিযোগ মানে না। তাহের বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের অধীনেই চলব। সংস্কার বাস্তবায়ন করব। নতুন আইন দরকার হলে তখন দেখা হবে।’

জামায়াত এবার প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থী দিয়েছে। খুলনা থেকে কৃষ্ণ নন্দী নির্বাচন করছেন। দলটি সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও কথা বলছে।

বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী বলেন, ‘অনেক মানুষ এখন বেশি ধর্মীয়। তবে তারা বাস্তববাদী। তারা আলেম নয়, রাজনীতিবিদকেই পছন্দ করে।’ তার মতে, ‘সমাজের বড় অংশ এখনো কট্টর ইসলামী রাষ্ট্র চায় না।’

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের থমাস কিয়ান বলেন, ‘জামায়াত ভালো ফলের পথে। তবে তারা জিতবে কি না, তা নিয়ে আমি সন্দিহান। দলটি কখনো ২০টির বেশি আসন পায়নি।’

এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়। এটি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেরও পরীক্ষা। কিয়ান বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কঠিন হবে।’ একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগও চোখে পড়ছে।

এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান বলেন, ‘এই নির্বাচন ইসলাম বনাম ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। এটি সংস্কার বনাম পুরনো ব্যবস্থার লড়াই। যে জোট মানুষকে ভালো শাসনের আশা দিতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ