• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক হলেন মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি

রিপোর্টার: / ৯৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া হয়েছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক।

আবুল কালাম দাড়িয়াকে আহ্বায়ক করায় উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধাদের মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়াকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আবুল কালাম দাড়িয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান লেবু, কমলেশ বেদজ্ঞ, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিককে হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি।

এই মামলার অপর আসামিরা হলেন—বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন (বীর বিক্রম), ফারুকুজ্জামান সরদার, মীর দেলোয়ার হোসেন, আবুল হাসেম দাড়িয়া, মোহন সরদার, মিলন সরদার, মোজাম সরদার, কুটিমিয়া সরদার, সামচুল হক মিয়া, নজির আহমেদ, ফজর আলী, আবুল হোসেন, নোয়াবালী মিয়া, জিল্লুর মোল্লা, ফুরু মিয়া, ফরমান আলী, মোতালেব মোল্লা, আবু বক্কর, মুজিবুর রহমান, মকবুল দাড়িয়া, লিয়াকত হোসেন ও ইয়াকুব আলী (ইকুব)।

১৯৭৩ সালের ১১ মার্চ দায়েরকৃত এই হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি ফারুকুজ্জামান সরদার, ৩ নম্বর আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া ও ৭ নম্বর আসামি মিলন সরদার জীবিত রয়েছেন। এই মামলাটির বাদি হয়েছিলেন কমলেশ বেদজ্ঞের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা লুৎফর রহমান গঞ্জর। তবে মামলাটি বর্তমানে বাদি পরির্বতন হয়ে দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে বাদি হয়ে বিচার প্রাথী হিসেবে মামলাটি লড়ে যাচ্ছেন কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ।

মামলাটির বাদি সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ বেদজ্ঞ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ কোটালীপাড়ায় জনসভা করে নৌকা যোগে গোপালগঞ্জ শহরে ফেরার পথে টুপরিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে হেমায়েত উদ্দিনের নের্তৃত্বে আসামিরা আমার পিতা কমলেশ বেদজ্ঞসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান লেবু, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিককে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ১১ মার্চ কোটালীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরেও আমরা এই হত্যা মামলার বিচার পাইনি। ইতোমধ্যে মামলাটির ২৩ জন আসামির মধ্যে ২০ জন আসামি মারা গেছেন। বাকি ৩ জন আসামি জীবিত রয়েছেন। এই মামলার রায় হতে হতে বাকি ৩ জন আসামিও হয়ত মারা যাবেন।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই ভেবে লজ্জাবোধ করছি যে,একজন খুনিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার জন্য জোরদাবি জানাচ্ছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, আমাদেরকে না জানিয়ে রাতের আধারে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি করছি।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রাতের আধারে কমিটি গঠনের কথাটি সত্য নয়। কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিত্বে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম দাড়িয়া বলেন, ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ ৪ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। আমাকে শত্রুতাবসত আসামি করা হয়েছিল। এই মামলার প্রকৃত আসামিরা কেউই জীবিত নেই।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের বেশ কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া যে হত্যা মামলার আসামি এটা আমার জানা ছিল না। এখন আমরা জেলা আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্বরত মুক্তিযোদ্ধারা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ