• আজ- শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

ঢাকাকে ১০ ভাগে ভাগ করে সন্ত্রাসীদের ছক

রিপোর্টার: / ১৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করে একেকটির দায়িত্ব দেওয়া হয় একেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে। দায়িত্ব বণ্টনের আগে শর্ত ছিল নিজ এলাকার বাইরে অন্য এলাকায় গিয়ে কেউ খবরদারি করতে পারবে না।

কিন্তু ‘গডফাদারের’ এই নির্দেশ মানছে না সন্ত্রাসীদের কোনো গ্রুপ। ফলে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। আন্ডারওয়ার্ল্ডে চলছে আধিপত্যের লড়াই। আর এ লড়াইকে কেন্দ্র করেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে বাড়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

 

এর জেরেই রাজধানীতে একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অঘটন। হচ্ছে নিজেদের মধ্যে খুনাখুনিও। সবশেষ ঘটনাটি ঘটে গেল মঙ্গলবার। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্যের দ্বন্দ্বেই রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন খুন হন। এর আগে পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায়ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি সামনে আসে। রায়েরবাজারে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায়ও নাম উঠে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের। এলিফ্যান্ট রোডের বিপণিবিতান মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে ব্যবসায়ী এহতেশামুল হককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখমের নেপথ্যেও অন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্থিরতা কাজ করে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে কারাগারের ভেতরেই ভিডিও কনফারেন্স করেন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। ওই কনফারেন্সের আয়োজন করেন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি। কনফারেন্সে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে যারা জেলে ছিলেন, তারা সবাই অংশ নেন। ওই সময় সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে যান।

সূত্র জানায়, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ঢাকা শহরকে ১০টি ভাগে ভাগ করে অপরাধজগতের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় সন্ত্রাসীদের হাতে। এর মধ্যে কিলার আব্বাস ও তাজকে দেওয়া হয় মিরপুর এলাকার নিয়ন্ত্রণ। মিরপুরে শাহাদাত নিজ ক্ষমতাবলে যতটুকু নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন, সেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামকে দেওয়া হয় মহাখালী, বনানী-গুলশান এলাকার দায়িত্ব। মালিবাগ-মৌচাক এলাকার দায়িত্ব পেয়েছেন রাসু। সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ক্যাপ্টেন ইমন পান মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, লালবাগের কিছু অংশ, নিউমার্কেট, এলিফেন্ট রোড এবং ঢাবি আবাসিক এলাকা। ফার্মগেট-তেজগাঁও, শেরেবাংলানগর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় এক গডফাদারকে (১৯৯৭ সালে তাকে ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল সরকার)। পুরান ঢাকার নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় মামুনকে (শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গত নভেম্বরে আদালতপাড়ায় খুন হন মামুন। এর পর থেকে সেখানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন শাহেদ)। পিচ্চি হেলালকে দায়িত্ব দেওয়া হয় মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, শ্যামলী-কল্যাণপুর এলাকার। বাড্ডা, রামপুরা ও উত্তরার নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে পৃথক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশনার বাইরে কিছুই হবে না-এমন অলিখিত চুক্তিতেই চলছে রাজধানীর অপরাধ সাম্রাজ্য। যখনই ব্যতিক্রম ঘটছে, তখনই দ্বন্দ্ব হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। আর ওই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ পাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। এলাকা ভাগ করে দেওয়ার সময় গডফাদারের নির্দেশ ছিল-কারও সঙ্গে কেউ ঝামেলা করতে পারবে না। কিন্তু অর্থের ভাগবাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা তৈরি হচ্ছে অপরাধজগতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ