• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

আশাশুনিতে এক নারীর দুই স্বামী! প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

রিপোর্টার: / ১৩৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজী হাবিব: প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার এক নারীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামের। একই নারীর দুই বিয়ে কীভাবে হলো- এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুনাকরকাটি গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে আছমা খাতুনের সঙ্গে আশাশুনির বুধহাটা গ্রামের আব্দুল হাকিম সরদারের ছেলে আজিজুল ইসলামের ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

বিয়ের পর প্রায় এক বছর আজিজুল ইসলামের সঙ্গে আছমা খাতুনের সংসার চলছিল বলে তার পরিবার দাবি করেছে। এ সময় আছমা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হন। সন্তান জন্মের সাত দিন পর শিশুটির মৃত্যু হলে আছমা খাতুন স্বামীর বাড়িতে আর ফিরে যাননি। তাকে সংসারে ফেরাতে আজিজুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ- মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।

এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথমদিকে আছমা খাতুন প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামকে তালাক না দিয়েই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের জোড়দিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মোড়লের ছেলে লিটন মোড়লের সঙ্গে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ইশালমারি এলাকায় ইটভাটায় কাজ করতে যান আছমা খাতুন।

পরবর্তীতে গত ৮ মার্চ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ১০ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের মাঝিরহাট এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. শওকাত আলীর কার্যালয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আছমা খাতুন ও লিটন মোড়লের বিয়ে হয়। এ বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার টাকা।

আছমা খাতুনের দ্বিতীয় স্বামী লিটন মোড়ল বলেন, আমার স্ত্রী আগে বিবাহিত ছিল- এ বিষয়টি আমি জানতাম না। জানলে তাকে বিয়ে করতাম না। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না। আমার স্ত্রী প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে আমাকে কেন বিয়ে করেছেন, সেটিও আমার জানা নেই।

লিটন আরও দাবি করেন, তাদের দাম্পত্য জীবনেও সন্তান ধারণের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, আছমা খাতুনের বাবা সাইফুল ইসলাম তার মেয়েকে বাদী করে প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার আমলী ৮ নম্বর আশাশুনি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। মামলাটির নম্বর সিআর ৩৪৫/২৬ (আশা.)।

মামলায় কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার প্রাথমিক তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামের বলেন- তাকে তালাক না দিয়েই আছমা খাতুন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এরপর তার বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করা হয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গুনাকরকাটি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন-প্রথম বিয়ের আইনগত অবস্থান কী ছিল, দ্বিতীয় বিয়ের আগে তালাক হয়েছিল কি না এবং প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী- এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

তবে এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। প্রকৃত ঘটনা ও দ্বিতীয় বিয়ের আইনগত বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ