
অনলাইন ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মতবিরোধ স্পষ্ট হলেও তা স্বীকার করছেন না ১১-দলীয় জোটের নেতারা। জোটের শরিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আসন ভাগাভাগি করে প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে। তবে জোটের বড় দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলাদা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শরিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে বাড়ছে দূরত্বও। তবে এসব নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছেন না জোটের নেতারা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আলাদা প্রার্থী নিয়ে মাঠে কাজ করার জোটের যে সিদ্ধান্ত, সেটি নিয়ে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে চান জোটের নেতারা। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের প্রয়োজন পড়লে সবার সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে জোটের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। কম আসন দেওয়ার অভিযোগ করেছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস। শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের জেরে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে আলাদা নির্বাচন করে।
এর পরও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব না মেলায় জোটের ভেতরে অসন্তোষ না কমে বরং বেড়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন নিয়ে সব শরিকের মতামত না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে জামায়াতের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাকে শরিক দলগুলো ভালোভাবে নিচ্ছে না।
যদিও জামায়াত সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে নিজেদের তিনটি আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দিয়ে জোটবদ্ধ রাজনীতিতে নজির গড়লেও জোটের মধ্যে টানাপোড়েন দূর করা যায়নি। জাতীয় নির্বাচনের পর খেলাফত মজলিস ঘোষণা দিয়ে জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাদের দেখা যাচ্ছে না।
খেলাফত আন্দোলনকে জাতীয় নির্বাচনে কোনো আসন দেওয়া হয়নি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি আসনে আলাদা নির্বাচন করে হাফেজ্জি হুজুরের দলটি। তবে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে এই দলের একটি অংশকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে কার্যত ১১ দল এখন ১০ দল।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে জোটে ইতঃপূর্বে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন নয়, সেহেতু সবাই আলাদাভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারে সব মিলিয়ে ৬৫ হাজার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। সেখানে সমঝোতা বেশ কঠিন। তবে কারও মনে ভিন্নচিন্তা থাকলে সেটা তাদের ব্যাপার।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলের মধ্যে টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে সিটি করপোরেশনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে। ইতোমধ্যে জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা মাঠেও নেমে পড়েছে কৌশলে। আলাদ আলাদা নির্বাচন করলে বিএনপি প্রার্থীকে মোকাবিলা করে বিজয়ী হওয়া দুই দলের পক্ষে কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে জোটের মধ্যেও। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। এ নিয়ে অসন্তোষ আছে শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে।