
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরায় এক মৎস্য ঘের মালিককে ধরে নিয়ে নির্দয় ভাবে মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খাজরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘের মালিক খাজরা গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, মৎস্য ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের সাগর মালী, মাছুম খা, শফি গাজী তার সাথে শত্রুতা করে আসছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নগদে একজনকে টাকা পাঠানোর জন্য পাশের মালেক মোড়লের দোকান থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে ২ মিঃ পথ যেতে না যেতেই ওছমান গাজী, শাহজাজান গাজী, মনি গাজী, শফি গাজী আমার পথরোধ করে মারপিট করে। মারতে মারতে শাহিনুর গাজীর বাড়িতে নিয়ে পিট মোড়া দিয়ে হাত বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় অত্যাচার করতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে সাগর, মাছুমসহ উশৃংখল কিছু ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে নির্দয়ভাবে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে আমি অচেতন হয়ে পড়ি। আমার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয়। তবে পরে মোবাইলটা ফেরত দিয়েছে।
মনিরুলের স্ত্রী আয়েশা বলেন, স্বামীকে পথ থেকে ধরে বাড়িতে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের খবর পেয়ে ছুটে যাই। তার অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে বারবার চিকিৎসার জন্য ছেড়ে দিতে অনুরোধ করি। তখন মামুনরা আমাকে চড় মারে। স্বামীকে পরে বাঁধা অবস্থায় দোকানে নিয়ে আটকে টর্চার করা হয়। মাছুম দোকানে ঢুকে মারে। মেম্বার গালিগালাজ করেন। গ্রাম পুলিশ শহিদুল চরম কষ্টদায়ক পরিবেশে জোর করে কাগজে সই করিয়ে নেয়।
পারভিন, মহসিনসহ অনেকে বলেন, আমরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পথ থেকে ধরে নিয়ে মারপিট, জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া ও ডাক্তার বা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না দেওয়ার ঘটনায় আমরা হতবাক হয়ে গেছি। তাদের আত্মীয় স্বজন ও পাড়ার লোকজন দীর্ঘ প্রায় ১৭ ঘন্টা পর আহত মনিরুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে পেরেছে বলে জানা গেছে।
অপর পক্ষের শাহজাহান গাজীর ছেলে সাহিনুর জানান, ঘটনার সময় আমার স্ত্রী ফাহিমা বাড়িতে ছিলনা। মনিরুল আমার ঘরে ঢুকলে আটক করার খবর পেয়ে আমি বাড়িতে যাই। তাকে মারপিট করে কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। আজ বুধবার শালিসের কথা রয়েছে।
ফাহিমা বলেন, মনিরুল আমাকে ভয় দেখায়। ভয়ে আমি স্বামী বাড়িতে না আসা পর্যন্ত বাইরে থাকি। মনিরুলকে লোকজন আমার ঘরের মধ্যে ধরেছে খবর পেয়ে আমি বাড়ি ফিরি।
দোকানদার মালেক গাজীর ছেলে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মনিরুল তার দোকানে ছিল। বিকাশে কাকে ১০ হাজার টাকা পাঠাবে বলে সাড়ে ৭ টার দিকে চলে গিয়েছিল।