• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

চুয়াডাঙ্গায় সূর্যের দেখা মেলেনি দুই দিন: আর কয়দিন থাকবে এ অবস্থা?

রিপোর্টার: / ১৮৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: উত্তর-পশ্চিম দিকে থেকে আসা হিমেল বাতাসে কাঁপছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। কয়েকদিন ধরেই জেলায় সকাল-সন্ধ্যায় তাপমাত্রার তারতম্য বেশি অনুভূত হচ্ছে। মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। দিনভর রোদের অভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগন্তি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গত শনিবার সকাল ছয়টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ এবং সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ও বাতাসের আদ্রতা ছিলো ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৮৬ শতাংশ। গতকাল রোববার সকাল ৬টায় ও ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩.০ ডিগ্রি ও ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।আজ ২৯ ডিসেম্বর সোমবার ২০২৫, সকাল ছয়টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৮°C এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৯৩% এবং সকাল নয়টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৬°C এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৯১%। আজ তাপমাত্রা এক ডিগ্রী কমেছে। ঠান্ডার প্রকোপ ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি। কুয়াশায় ঢেকে ছিল সূর্য। সারাদিন দেখা মেলেনি সূর্যের। হিমেল বাতাস আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা চুয়াডাঙ্গায় ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন।

সকালে দেখা যায় এই তীব্র শীতেও খেজুরের রস বিক্রেতারা কাঁধে বাঁশের ঝোকায় মাটির হাড়িতে খেজুরের রস বিক্রি করছে। এসময় রস বিক্রেতা হামিদুল্লাহ বলেন, ‘ভোর বেলার রস খুব মিষ্টি হয়। আমার ৮টা গাছ আছে, আমি প্রতিবছরই রস বিক্রি করি। গ্লাস প্রতি ২০ টাকা করে বিক্রি করছি। শীত উপেক্ষা করেই আসতে হয় আমাদের। বেশি সকাল হলে রস নষ্ট হয়ে যায়।’

রিকশাচালক হাসান আলী বলেন, ‘এই শীতে রিকশা চালানো খুব মুশকিল। হাত পা জমে যায়। শীতের কাপড়েও শীত কমে না। সকাল সকাল বের হই যদি দু-একটা যাত্রী পাই সেই আশায়।’ রাজমিস্ত্রী রফিক জানায়, ‘শীত, গরম, বর্ষা যাই হোক আমাদের ঠিক সময়ে কাজে আসতেই হবে। আমরা দিন হাজিরায় কাজ করি। একদিন কাজ না করলে ওই দিনের টাকা আর পাবো না। তাই শীত পড়ুক আর গরম কাজে আমাদের আসতেই হবে।’

যেখানে দামি শীতের পোশাক, লেপ-কম্বলেও চুয়াডাঙ্গার এই হাড়কাঁপানো শীত মোকাবিলা খুব মুশকিল, সেখানে কিছু ছিন্নমূলের অসহায় মানুষদের দেখা যায় শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে, ফুটপাতে, স্টেশনে ছেঁড়া ফাটা কাপড় আর পাতলা কম্বল বা কাঁথায় রাত্রিযাপন করতে। শীত যেন তাদের জন্য অভিশাপ। তবে জেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মানবিক সংস্থার দেওয়া কম্বল ও শীতের কাপড় ছিন্নমূলের মানুষদের শীতের সাথে যুদ্ধে কিছুটা ঢাল হিসাবে কাজ করছে। হাসাপাতালেও বাড়ছে রোগির চাপ, সল্প লোকবলে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘আজকে তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী কমে একই অবস্হা বিরাজ করছে। সূর্য না ওঠায় ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতিটা বেশি। এটি কোনো শৈত্যপ্রবাহ নয়। তবে এই মাসের ৩০ তারিখের পর থেকে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান,গত দুদিন ধরে একটি শক্তিশালী কোয়াশা বেল্ট উত্তর- পশ্চিম কোণ দিয়ে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বেশীরভাগ জেলা বিস্তৃত রয়েছে।এ অবস্হা আরো ২ দিন চলমান থাকতে পারে।এরপর,সূর্য্যের দেখা মিললেও নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে একটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের শৈত প্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ