• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

পাইকগাছা সড়কের বেহাল দশা: চরম দূর্ভোগ

রিপোর্টার: / ১৮৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা-কয়রার সড়কের বেহাল দশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকায় রয়েছেন। এ সড়ক নিয়ে কারোর যেনো কোন মাথাব্যথা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অন্ধের শহরে বাস করছেন। আর কত বছর অতিবাহিত হলে এই সড়কের কাজ সংস্কারের উদ্যোগ নিবেন কর্তৃপক্ষ! সেটাও রয়ে গেছে অজানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১৮ মাইল থেকে খুলনার পাইকগাছা-কয়রার প্রায় ৬০ কি. মি. দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ধীরগতি। বিগত সরকারের আমলে ২০২০ সালে একনেকে প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন হয় ৩’শ ৩৯ কোটি টাকা। পরবর্তীতে সেটা তিন দফায় সময় ও ব্যায় বাড়িয়ে ৫’শ ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এই প্রকল্পটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। একটা সময় উক্ত প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও মামলা মোকদ্দমায় কাজটি দীর্ঘ একটি সময় বন্ধ থাকে।

সাতক্ষীরার তালার ১৮ মাইল থেকে খুলনার পাইকগাছা-কয়রা পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলের পথ ঝুঁকিমুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বাঁক সরলীকরণ ও সড়ক প্রসস্ত করতে এ প্রকল্পটি পেয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু কাজ শেষ না করে ফেলে রেখেছে দীর্ঘ একটি সময়।ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খুলনার পাইকগাছা-কয়রা’র সংশ্লিষ্ট প্রধান সড়কের পৌর সদরের ব্যাস্ত তম জিরো পয়েন্ট, মানিকতলা, নতুন বাজার, আগড়ঘাটা, গোলাবাড়ী, মুচির মোড় (পুকুর) এবং কপিলমুনি হাসপাতাল সংলগ্ন প্রাধান সড়কের বেহাল দশা। এসব এলাকায় ২ থেকে ৩’শ মিটার সড়কের কাজ ফেলে রেখেছে সংশ্লিষ্ট টিকাদার প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। সামান্য বৃষ্টি হলে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে, যেখানে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ছোট বড় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মালবাহী ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন খাদে আটকে যায়। সংশ্লিষ্ট খুলনা-পাইকগাছা-কয়রা রুটের একটি মাত্র রাস্তা হওয়ায় প্রতিদিন শতশত যান চলাচল করে এ রাস্তা দিয়ে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতে এ সড়ক দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। উপজেলার মুচির পুকুর নামক স্থানে প্রতিদিন ভারী যানবাহন গর্তে আটকে পড়ে।

এছাড়াও গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জিরো পয়েন্টের পাইকগাছা-কয়রা রুটে একটি মালবাহী ট্রাক গর্তে পড়ে আঁটকে যায়। ট্রাকটি ২৭ ঘন্টার মাথায় সেখান থেকে উঠানো হয়। এসব ছোট বড় খানাখন্দে পানি জমে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি আর বৃষ্টির মৌসুমে কাঁদা পানিতে চলাচলের চরম ভোগান্তিতে তিন উপজেলাবাসী।

পথযাত্রী রিয়াদ হোসেন জানান, তিনি খুলনা জেলা জজ আদালতে (কোর্টে) একটা কাজে যাচ্ছেন কিন্তু তিনি তার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে সংশয় আছে। তিনি আরো জানান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে না পারলে তিনি কাজ মিটাতে পারবেন না। ওই কাজের জন্য পুনরায় যাওয়া লাগবে।

স্থানীয় বাসমালিক শুভ সাধু বলেন, প্রতিদিন খুলনা পাইকগাছা ও কয়রা রুটে বাস ট্রাক পরিবহন সহ তিন শতাধিকের বেশি যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়াতে প্রতিনিয়ত সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। প্রায় গেলে বাসের ক্ষয়ক্ষতি হয়, এতে করে বাস ট্রাকের মালিক পক্ষের ব্যাপকভাবে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন আগে একটি বাস পাইকগাছা থেকে খুলনায় যেতে সময় লাগতো দেড় ঘণ্টা আর এখন সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। ফলে জ্বালানী খরচ তিনগুণ বেড়ে গেছে।

বাস শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এই রুটে যানবাহন চলাচলে মালিক পক্ষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আয়ের থেকে ব্যায় বেশি এতে করে মালিক পক্ষের ব্যবসা বাঁচবে না।

তারা আরো বলেন, এই সড়কে খানা খন্দের কারনে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটে। প্রতিদিন রাস্তার যানবাহন খাদে আটকে যায় এমন ঘটনা অহরহ অহরহ ঘটছে। এতে করে সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ভাঙ্গা চোরা রাস্তায় বাস ট্রাক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়না। অনেক সময় যানবাহন উল্টে পড়ে।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের রাস্তায় বের হতে হয়। এটা নিয়ে কয়েক দফায় খুলনা পাইকগাছা ও কয়রা রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনো সমাধান হয়নি বিষয়টি নিয়ে যেনো কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

সচেতন মহল বলছেন, একটি জেলা বা উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হলে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়ে। ঠিক তেমনি ভাবে এই দুটি উপজেলায় অর্থনৈতিক ভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। কয়রা থেকে খুলনা জেলা শহর ১’শ কিলোমিটার, কয়রা থেকে জেলা শহরে যেতে বর্তমানে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় লাগে এবং পাইকগাছা থেকে জেলা শহর ৬০ কিলোমিটার যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা। এমন ১’শ কিলোমিটার পথে যেতে এত সময় লাগে যেটা পৃথিবীর কোন দেশে আছে কেমন সেটাও তাদের জানার বাইরে। সচেতন মহল আরও বলেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বসে মাসের পর মাস মোটা অংকের বেতন উঠিয়ে খাচ্ছে কিন্তু উন্নয়নের দিকে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই বললে চলে।

নাগরিক ফোরামের পাইকগাছা-কয়রা’র প্রধান সমন্বয়ক ও খুলনা-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আমরা নাগরিক ফোরাম এর পক্ষ থেকে গত বছর ২০২৪ সালে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন এর কাছে একটি স্বারকলিপি প্রদান করি। কিন্তু স্বারকলিপি তিনি তার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন কিনা সেটা এখনো অনিশ্চিত। এছাড়াও এ পর্যন্ত বহুবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই সড়ক সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সুফল মেলেনি। দিন দিন যেনো ভোগান্তি বেড়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন, একমাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ ব্যাবস্থা না নিলে জনগণ এক মাস পরে হরতাল অবরোধ ও কঠিন কর্মসূচিতে যাবে। গত শনিবার সকালে জিরো পয়েন্টে মানববন্ধনে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের এই দুর্ভোগ লাঘবে কোনো পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন, বাঁক সরলীকরণ ও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা থাকার কারণে কাজ আটকে ছিলো। তাছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবহিত করা হয়েছে। আশা করি বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে।

উক্ত বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ, সড়ক বিভাগ, খুলনার মো. তানিমুল হক, জানান, বাঁক সরলীকরণের জন্য এই সড়কে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল তার কারণ জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ছিল। আমরা জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি বলছিলেন সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ না বিধায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। পরে আমরা প্রায় একদুই বছর ধরে বুঝতে সক্ষম হয় যে এই সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ তখন তিনি স্টিমেট দিছেন। এখন আমরা চেষ্টা করবো। অন্যান্য জায়গার কাজ শেষ। যেখানে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা ছিল সেখানে কাজ বাকি আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ