
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘ডিটেক্টেড ডিফল্ট হোল্ডিং সেন্টার’ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনার পর অবৈধভাবে বসবাসকারীদের দেশে ফেরার তৎপরতা বেড়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে সাতক্ষীরা সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গভীর রাতেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় শত শত নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয় বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে প্রবেশ বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া—এমন তথ্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদনগুলোতে।
এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সীমান্তসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভাব্য পুশব্যাক প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। গভীর রাতেও বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতামূলক ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষায়, সীমান্ত আইন অমান্য করে কোনো ধরনের পুশব্যাকের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা গভীর রাতেও সতর্ক অবস্থানে আছি। অতিরিক্ত ফোর্স এনে টহল জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের পুশব্যাকের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।”
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় কিছু কথিত বাংলাদেশিকে জড়ো করে পরে সীমান্তে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি ও প্রস্তুতির কারণে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।