
নিজস্ব প্রতিনিধি: “খাদ্য ও পুষ্টি, সবার জন্য একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়া” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ^খাদ্য দিবস-২০২৫ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে পুষ্টি ক্যাম্পেইন ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইফাদ (ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালাচারাল ডেভেলপমেন্ট) এর যৌথ অর্থায়নে এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম প্রুভড নিউট্রিশন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ পুষ্টি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ইফাদ এর কান্ট্রিডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচানচো।
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন, গেইন এর পোর্টফোলিও লিড ড. আশেক মাহফুজ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক ড. মুহাম¥দ ইমদাদুল হক, কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম, ফাও এর ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ ড. দিয়া স্যানো প্রমুখ।
আলোচনাসভা শেষে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বক্তারা বলেন, জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যকর খাবার শুধু শিশুর শারীরিক বিকাশকেই নয়, বরং তার মস্তিকের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে যা পরবর্তীতে জাতির বুদ্ধি বৃত্তিক সক্ষমতায় অবদান রাখে। এটি কেবল কতটা খাবার আমরা খাই তার ওপর নয় বরং আমরা কী খাই এবং কীভাবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া খাবার গুলোকে সঠিকভাবে মিলিয়ে খাই তার ওপর নির্ভর করে। স্থানীয় ভাবে পাওয়া পুষ্টিকর খাবার দিয়ে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের মান উন্নত করলে শেখার ক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা এবং সবার জন্য একটি সুস্থ ভবিষ্যতের ভিত্তি আরও মজবুত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল পুষ্টিকর রান্না প্রতিযোগিতা, যেখানে স্থানীয় নারী কৃষকরা পুষ্টিকর খাবার তৈরিতে নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের একটি দল পুষ্টি-ভিত্তিক একটি নাটক মঞ্চস্থ করে। নাটকটিতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শিশু পুষ্টি, কিশোর-কিশোরী পুষ্টি, মাতৃপুষ্টি, প্রবীণদের পুষ্টি এবং কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব নিয়ে বার্তা তুলে ধরা হয়। নাটকটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সচেতনতা বৃদ্ধি ও আচরণগত পরিবর্তনকে অনুপ্রাণিত করা। অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণকারীরাও তাদের জীবনযাত্রা ও জীবিকার মানোন্নয়ন সম্পর্কিত বার্তা শেয়ার করেন, যা সমগ্র অনুষ্ঠানে একটি অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৩০০ জন নারী ও যুব কৃষক-কৃষানী অংশ গ্রহন গ্রহন করেন। এসময় তারা বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য প্রদর্শন করেন।