• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

ভারতে জাহাজডুবিতে বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাতক্ষীরার মামুন নিখোঁজ: উৎকণ্ঠায় পরিবার

রিপোর্টার: / ১৬১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের ওডিশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’ ডুবে যাওয়ার পর থেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়া জাহাজটি শনিবার বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়। জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন ক্রুর মধ্যে ২০ জন চীনের, ৩ জন মিয়ানমারের ও ১ জন বাংলাদেশের নাগরিক বলে ভারতীয় কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজডুবির পর এ পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল্লাহ আল মামুনের অবস্থান সম্পর্কে এখনো তাঁর পরিবারকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

 

নিখোঁজ মামুনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলা শহরের কাটিয়া এলাকায়। রোববার রাতে মুঠোফোনে তাঁর বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকির সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো দিক থেকে কোনো আপডেট পাচ্ছি না। ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ডের পেজে কখন আপডেট হয়, তারা কোনো ব্রিফিং করে কি না সেটার জন্য অপেক্ষা করছি।’

 

আব্দুল্লাহ আল বাকি জানান, শনিবার দুপুরের দিকে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে জাহাজডুবির খবর প্রথম জানতে পারেন তাঁরা। এরপর তাঁকে যে বিদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজে পাঠানো হয়েছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তারাও এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

জাহাজটি কীভাবে ডুবে গেল, তার সুনির্দিষ্ট কারণও এখনো জানা যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ভারতের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়।

 

এরপর কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। জাহাজটি রাত আটটার দিকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের ‘বরদ’ ও ‘আনমোল’ নামের দুটি টহল জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ‘বিজিত’ নামের আরেকটি টহল জাহাজও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান চলছে।

 

পরিবারের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে মামুনের বড় ভাই বলেন, ‘আম্মুর আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে, আব্বুরও বয়স হয়েছে। মামুনের ঘটনা জানার পর থেকে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মামুনের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার। সঠিক কোনো তথ্য জানতে পারছি না।’

 

মামুনের খোঁজের বিষয়ে তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করছেন বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু। তিনি জানান, গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ‘এমভি ওশান উইনার’ জাহাজে যোগ দেন মামুন। ওডিশা উপকূল থেকে জাহাজ ছাড়ার রাতে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়। তারপর জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে।

 

সাদাত বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির কাছেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ