• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ৬ বার উদ্যোগ নিয়েও কেন ক্ষমা চায়নি জামায়াত?

রিপোর্টার: / ১২০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নতুন বইয়ে উঠে এসেছে, দলটির ভেতরে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই তা থেমে গেছে। ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

রাজ্জাকের বর্ণনায়, প্রথম সুযোগ আসে ১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর। রাজ্জাক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের পর প্রথম ভাষণেই একাত্তরের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরুন গোলাম আযম। প্রস্তাবে নীতিগতভাবে রাজি হলেও বায়তুল মোকাররমের সমাবেশে গোলাম আযম শুধু সাধারণভাবে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ যা রাজ্জাকের ভাষায় ছিল নিতান্তই দায়সারা।

দ্বিতীয় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক– আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহযোগিতায় সাতটির বেশি খসড়া তৈরি করে শেষে একটি বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছান নেতারা। কিন্তু ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী মত পরিবর্তন করেন বলে রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আবদুর রাজ্জাককে জানান, তার ধারনা, এই কাজটা নিজামী করেছিলেন কোনো এক প্রবীণ নেতার পরামর্শে, যার নাম কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চার বছর পর, ২০০৫ সালে বিষয়টি দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বিরোধীরা যুক্তি দেন, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল না, এমনকি ক্ষমা চাইলে পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হবে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এক সাবেক সংসদ সদস্য। রাজ্জাক পরে লিখেছেন, ইতিহাস প্রমাণ করেছে সেই আশঙ্কা ভিত্তিহীন ছিল।

এরপর ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল। ২০১১ সালে মজলিশে শুরার শেষ উন্মুক্ত অধিবেশনেও রাজ্জাকের তোলা প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর নতুন নেতৃত্বের সময়ও একবার খসড়া তৈরি হয়, বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায়ও একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রস্তুত হয়, কিন্তু সেটিও প্রকাশের মুখ দেখেনি।

রাজ্জাকের মূল্যায়ন, প্রতিবারই দলের ভেতরের প্রভাবশালী একটি অংশ হস্তক্ষেপ করে উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, একাত্তরের ভূমিকা আজও জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে রয়ে গেছে—দুই দশকে অর্ধডজনের বেশি খসড়া বিবৃতি তৈরি হলেও একটিও প্রকাশিত হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ