
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কার্যালয়ে কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাসের সঙ্গে এক আইনজীবীর উচ্চবাচ্য ও বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ভিডিওটি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসার পর বিষয়টি নিয়ে জেলার সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিনকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৪টি মামলার শিকার হওয়ার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।
ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস ধৈর্যের সঙ্গে তাঁর বক্তব্য শোনেন এবং আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার কথা বলেন। তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ধরনের আচরণ দাপ্তরিক শিষ্টাচারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
অন্যদিকে, ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে জেলার সচেতন মহলের কয়েকজন দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
এদিকে, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) অ্যাডভোকেট নুরুল আমিনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অল্পসংখ্যক আইনজীবীর উপস্থিতি দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যসংখ্যা প্রায় ৭০০ বলে দাবি করা হলেও মানববন্ধনে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন আইনজীবী অংশ নেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উপস্থিতির সংখ্যা ও কর্মসূচি নিয়ে সমিতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে মতভিন্নতার কথাও জানা গেছে। কয়েকজন আইনজীবী কর্মসূচির বিরোধিতা করেছেন বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাগত শিষ্টাচার বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ভিডিওতে ধারণ করা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এড. নূরুল আমিনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধন চলাকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এড. কামরুজ্জামান ভূট্টোর নেতৃত্বে ওই মানববন্ধন বাধার মূখে তা পন্ড হয়ে যায়।