
নিজস্ব প্রতিনিধি: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হল পবিত্র ঈদুল আযহা। এ উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাজুড়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলার অন্যতম প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। একই সঙ্গে জেলার সাতটি উপজেলার গ্রাম, মহল্লা ও বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান এবং মসজিদগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
ঈদের জামাতে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, যুবকসহ নানা বয়সী মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে খুতবায় ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার শিক্ষা তুলে ধরা হয়। পরে বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
এদিকে ঈদকে ঘিরে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা যায়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মুসলমানদের বৃহৎতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রবৃত্তির দাসত্ব, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষসহ মনের পশুত্বকে পরাভূত করার শিক্ষা দেয় কোরবানির। মহান আত্মত্যাগ, আত্মসমর্পণ এবং নিজেকে উৎসর্গ করার মহিমায় উদ্ভাসিত মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট করে। বৃহৎতম এই ধর্মীয় উৎসবে ধনী, গরিব সব মানুষের মনপ্রাণ ঈদের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মিলে যায়।
আল্লাহ তায়ালার প্রতি অপার আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে মুসলিম বিশ্বে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির রেওয়াজ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন
এই অনন্য ঘটনার স্মরণে কোরবানি প্রচলিত হয়। আরবি ‘কুরবান’ শব্দ থেকে কোরবানি। এর অর্থ-ত্যাগ, উৎসর্গ, বিসর্জন, নৈকট্যলাভ। পরিভাষায় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যলাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে, নিদিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পশু জবেহ করাকে উযহিয়্যা বা কোরবানি বলে। মনের পশু অর্থাৎ কুপ্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা। মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজনে নিজের প্রিয় বস্তুকে কোরবানি দেওয়ার প্রস্তুতির শিক্ষাই এ ঈদের আদর্শ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দ্বিধাহীনভাবে তার কাছে আত্মসমর্পণ এবং তার নির্দেশ শর্তহীনভাবে মেনে নেওয়াই হলো ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা দেয়।
সাতক্ষীরা মুনজিতপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টায় ঈদুল আজহার নামাজে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহসুদুর রহমান, অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড়, সদস্য আব্দুল আজিজসহ প্রশাসনের উদ্বোধন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, আলেম-ওলামাসহ ধনী, গরিব, সর্বস্তরের মানুষ।