
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় পৈত্রিক সম্পত্তি স্ত্রীর নামে লিখে দিয়ে মাকে মারধর, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টা এবং স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম (৫৩)।
মামলার আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের গোদাড়া এলাকার আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে রাসেল রেজা (৩৪) ও তার স্ত্রী অলিমা ইয়াসমিনকে (৩১)।
কাঁদতে কাঁদতে ভূক্তভূগী রেহেনা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে অনেক ছোট থাকতে আমার স্বামী আব্দুর রশিদ সরদার তার জমি ছেলেদেরকে ভাগ করে লিখে দেন। তখন থেকে আমি বড় ছেলে রাসেল রেজার বসতবাড়িতে থাকতাম। রাসেল সরকারী চাকুরী করে। ২০১৮ সালের দিকে রাসেল বিয়ে করে এবং কিছুদিন পর তার নামে থাকা পৈত্রিক জমি পুত্রবধূ অলিমার নামে লিখে দেন। এরপর স্ত্রীর কুপরামর্শে রাসেল বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর ও নির্যাতন করতো। এ বছরের ৭ জুন রাসেল পটুয়াখালী থেকে বাড়িতে আসার পর অলিমা তাকে আমার বিরুদ্ধে উসকানি দেয়।
একপর্যায়ে রাসেল গালিগালাজ করলে আমি প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল পাশে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এসময় পুত্রবধূ অলিমা ওড়না দিয়ে আমার গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেয়। আমি মাটিতে পড়ে গেলে রাসেল আমার গলায় পা দিয়ে চাপ দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ছেলে ও বউমা আমাকে ছেড়ে দেয়। এরপর রাসেল ঘরের শোকেজে থাকা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
তিনি আরো বলেন, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি। মামলা করায় রাসেল মোবাইল ফোনে আমাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় এবং বাড়িতে গেলে খাবারের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যার হুমকি দেয় পুত্রবধু আলিমা। এ ব্যাপারে আমি থানায় জিডিও করেছি।
এ ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং আমি যাতে আমার স্বামী-সন্তানের বাড়িতে ফিরতে পারি তার ব্যবস্থা করার দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত রাসেলের কাছে কল দিলে তিনি ব্যস্ত আছে বলে কলটি কেটে দেন।