• আজ- বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
কালিগঞ্জে টিউবওয়েল মেরামতের সুযোগে ধর্ষণের অভিযোগ: তিন মেয়েসহ বাড়িছাড়া গৃহবধূ মাথায় পানি জমা রোগ নিয়ে ১১ মাসের ইব্রাহিম হাসপাতালে: চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছে না অসহায় পরিবার কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক গনিয়ার রহমানের মৃত্যু দেবহাটায় শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি: প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততায় মুখরিত মণ্ডপগুলো সিআইএ’র প্রতিবেদন: ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি সাতক্ষীরা পরানদহায় পূর্ব শত্রুতায় বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন: খুনিদের ফাঁসির দাবি সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধাবী ছাত্র জাকারিয়া হত্যা: মূল হোতা নাহিদসহ গ্রেপ্তার- ২ তালায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ দলকে অবরুদ্ধের চেষ্টা: গ্রেফতার ৩ সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যায় ১২ জনের নামে মামলা: প্রধান আসামী নাহিদকে ধরিয়ে দিতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

যৌন হয়রানির শিকার শিশুকে বিচারকের চিঠি ‘ও জেলেই মরবে’

রিপোর্টার: / ৭৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যৌন নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের এক শিশুকে সাহস জোগাতে আবেগঘন চিঠি লিখেছেন ভারতের দিল্লির এক বিচারক। ওই বিচারকের আদালতেই শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে তিন বছর আগে। তখন শিশুটির বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। শিশুটি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করেছিল।

চলতি বছরের শুরুতে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সময় বিচারক রাজানি রাঙ্গা শিশুটিকে উদ্দেশ করে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, আদালত শিশুটির হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে দিতে না পারলেও তার কথা যে শোনা হয়েছে, সেটি নিশ্চিত করতে পারে।

শিশুটি আদালতে আবেদন করেছিল, ‘আঙ্কেল’ যেন বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত কারাগারে থাকেন। বিচারক জানান, তার সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।

চিঠিতে বিচারক লেখেন, ‘বেটা, এই আদালত তোমার কথা শুনেছে। তুমি যখন বলেছিলে—আঙ্কেল যতদিন না বৃদ্ধ হন, ততদিন যেন তাকে জেলে রাখা হয়—তখন এই আদালত তোমার কথা শুনেছিল। আর আদালত তোমার সেই আবেদনের উত্তর দিয়েছে।’

তিনি আরও লেখেন, ওই ব্যক্তি জীবনের বাকি সময় জেলেই থাকবেন এবং আর কখনো শিশুটিকে, তার ছোট বোনকে কিংবা অন্য কোনো শিশুকে আঘাত করতে পারবেন না।

শিশুটির সাহসের প্রশংসা করে বিচারক বলেন, ‘তুমি এই আদালতের দেখা সবচেয়ে সাহসী ছোট মেয়েদের একজন। তুমি আদালতে এসে যে ব্যক্তি তোমাকে আঘাত করেছে তাকে শনাক্ত করেছ এবং সত্য বলেছ। তুমি চুপ করে থাকোনি। তুমি তোমার মাকে জানিয়েছ।’

চিঠির শেষ দিকে বিচারক শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

গত ২২ সেপ্টেম্বরের রায়ে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতিভা এম সিং ও বিচারপতি দিনেশ ভাটের বেঞ্চ বিচারকের এই বার্তাকে ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ বলে উল্লেখ করেন।

দেশটির হাইকোর্ট দিল্লি জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, বিচারকের চিঠিটি ছাপিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে শিশুটির বা তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের অর্থও দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযুক্তকে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে ভারতের সুরক্ষা আইন ও ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শিশুটিকে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তের সাজা স্থগিতের আবেদনও হাইকোর্ট নাকচ করে দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ