• আজ- শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আইনজীবীর বাগ্‌বিতণ্ডা, ভিডিও ভাইরাল সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর

সাতক্ষীরার কুশখালী সীমান্তে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অসহায় সাধারণ মানুষ: শাস্তি দাবি

রিপোর্টার: / ৮১১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কুশখালী সীমান্তে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এসব দালাল চক্র সীমান্তে শুরু করেছে চাঁদাবাজি, মানবপাচার, মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্ম। ওই চক্রের কথা মত না চললে তারা বিজিবি’র হাতে তুলে দেয়। অনেক সময় নিরীহ মানুষদেরও বিজিবি’র মাধ্যমে ফাঁসানো হয়। কারণ তাদের সাথে বিজিবি’র আছে গভীর সখ্যতা। দালালদের নিয়মিত অপকর্মের নিয়মিত ভাগ দিতে হয় স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্প কর্মকর্তার। যখন নিজেদের জীবন বাজি রেখে বিজিবি রেখে দেশ সেবা করছে। ঠিক তখনই গুটি কয়েক অসাধু বিজিবি সদস্যদের কারণে ওই দালালরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতের আধারে কুশখালী সীমান্ত দিয়ে ১০ জন বাংলাদেশী নারী-পুরুষকে ভারত থেকে সীমান্ত পার করে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এসব সাধারণ মানুষ রাতে নিজ দেশে ফেরার পরপরই নতুন এক বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। দেশে ফেরার পরপরই তারা স্থানীয় মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গভীর রাতে সাতক্ষীরার কুশখালী সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এসময় বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে তাদের সীমান্ত পার হতে বাধ্য করা হয়। তবে দেশে ফেরার স্বস্তিটুকু পাওয়ার আগেই তারা স্থানীয় অসাধু দালালদের বাধার মুখে পড়েন। দালালরা এই সুযোগে তাদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। প্রাণভয়ে এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার আকুতিতে অনেকেই দালালদের চাহিদামতো টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই টাকার ভাগ দায়িত্বরত বিজিবি কর্মকর্তাদের মাথাগুনে ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া লাগে।

ফেরত আসা ওই ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিকের বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁগআচড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন তারা কাজের সন্ধানে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গভীর রাতে তারা বাংলাদেশে চলে আসে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, দালালদের তৎপরতা সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দেশে ফিরে পরিবারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু দালালরা সীমান্ত এলাকাতেই তাদের পথরোধ করে টাকা না দিলে যেতে দেবে না বলে হুমকি দেয় ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে।

দালাল চক্ররা হল- সাতক্ষীরার কুশখালী এলাকার মতি মোড়লের ছেলে শফি, মানদাত সরদারের ছেলে বাসার ফকির, ফুটটো, মফি, মনি ও ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কুদ্দুস (এফএস’র সোর্স), মক্তব মোড় এলাকার জিয়া, তলুইগাছার আব্দুল খালেকের ছেলে লিটন, কাশেম সরদারের ছেলে ইয়ারুল, আজি’র ছেলে খোকা, কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি এলাকার আশরাফ মাস্টারের ছেলে আলফা, কাশেম কুলু’র ছেলে জুলফিকার, কেড়াগাছি এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে শহিদুল ইসলাম। এসব দালালদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাও আছে। গত বছরও একটি মানবপাচারের মামলা হয়। যার মামলা নং- ৫৭, তারিখ- ২৫/১০/২০২৫। তাদের দৌরাত্ন্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সবাই।

তারা আরো জানান, সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্রের এই দৌরাত্ম্য বন্ধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। অসহায় মানুষগুলোকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা জরুরি।

সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ঘাট আছে। আর এসব ঘাট পরিচালনা করে কুশখালীর শফি, তলুইগাছার বেল্লাল, কেড়াগাছির আজহারুল, হাসান, ভাদিয়ালির কালাম সহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা। এসব ঘাট মালিকদের বিভিন্ন লোক পোষা আছে। তারা তাদের বিভিন্ন কাজের জন্য ওইসব লোকদের কাজে লাগায়। মূলত ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতসহ চোরাচালানীর কাজের জন্য ঘাট মালিকরাই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই সব কিছু রিসিভ কওে বলে এক দালাল এ প্রতিনিধির কাজে স্বীকার করেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী দাবী করেন, এসব দালালরা চাঁদাবাজি, মানবপাচার, মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত এবং বিজিবি’র সোর্স ও ডোনার হিসেবে এরাই কাজ করে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই ১০ জন ব্যক্তি দালালদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন বলে জানা গেছে। তবে তারা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত।

একটি গোপন সূত্র দৈনিক অপরাধ বার্তাকে জানান, গত বৃহস্পতিবার ১০ জনকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় কুশখালী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এব্যাপারে ওই দালাল চক্রের সদস্য কেড়াগাছির শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাই আমি একজন ইজিবাইক চালক। সেদিন আমি বাংলাদেশে আসা ওই নারী উপকার করেছিলাম মাত্র। তবে, সেদিন তারা স্ব-ইচ্ছায় বাংলাদেশে আসেনি। তাদেরকে বিএসএফ পুশব্যাক দিয়েছিল।

এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দালাল চক্রের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের নামে যারা নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, তাদের কঠোর শাস্তির দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি আমরা শুনেছি এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশব্যাকের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো চক্র যাতে অসহায় মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অর্থ উপার্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি তৎপর রয়েছে।

এব্যাপারে ৩৩ বিজিবি’র অধিনায়ক- এর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিকাল ৩টা ৩৬ ও ৩টা ৪০ মিনিটে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ