• আজ- রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী-ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার কালিগঞ্জে শিশু নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগে মামলা: অভিযুক্ত আটক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কালিগঞ্জের এক ব্যক্তির মৃত্যু আশাশুনির মহেশ্বরকাটি মৎস্য সেটে ব্যবসায়ীর টাকা লোপাট দেবহাটা ও আশাশুনির শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার জাহানাবাজে ঘোড়দৌড় দেখতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি ট্রান্সফরমার চুরির ১৫ মাস পরও বিদ্যুৎহীন স্কুল দাবদাহে কষ্টে শিক্ষার্থীরা: জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ, উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো-দ. আফ্রিকা

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সড়ক নির্মান কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

রিপোর্টার: / ৯৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

★ঠিকাদারের লোক মিজানুর কাউকে তুয়াক্কা করেননা!
★ ২-৩ নং ইট ও খোয়া ব্যবহার, লোনা বালি ববহার করে ঢালাই, পানির মধ্যেই গাঁথনির কাজ
বিএম আলাউদ্দীন. আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার চেউটিয়া নদীর উভয় পাড়ে দীর্ঘকালের অবহেলিত সড়কের নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। শুরু থেকে মহা দাপটের সাথে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদারের ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান কাউকে তুয়াক্কা না করে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এলাবাসীর মধ্যে ধামাচাপা থাকা আগুন প্রজ্বলিত হতে শুরু করেছে।
চেউটিয়া নদীর উত্তরপাড়ে কাপসন্ডা বাজার থেকে নয়ারাবাদ উত্তর পাশ পর্যন্ত এবং নদীর দক্ষিণ পাড়ে চেউটিয়া বাজার থেকে খালিয়া পর্যন্ত সড়ক নির্মান কাজ চলছে। ২০২২ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান “মেসার্স আবেদ মনছুর কনস্ট্রাকশান” কাজের তেমন কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আওয়ামীগের দোসর হিসাবে খ্যাত ঠিকাদার ও তার ধুরন্ধর ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান (স্থানীয়দের কাছে পিস্তল মিজান নামে পরিচিত) দলের প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে কাজে যারপর নয় অনিয়ম দুর্নীতিতে ছেয়ে ফেলেন। বারবার কাজের সময়সীমা বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে পারেননি। ৫ আগষ্টের পরও তাদের মাথার উপর ছাদ হিসাবে বসে থাকা পুরনো আওয়ামী ঘরানার ক্ষমতার দাপটে তারা এখনো ধরাকে সরা জ্ঞান করে কাজ চালিয়ে আসছেন। বারবার তাদের দুর্নীতি, অনিয়মের প্রতিবাদ ও নিম্নমানের মাল এলাকাবাসী আটকে দেন।
উপজেলা ও জেলা কর্তৃপক্ষ কাজ আটকে দিয়ে নিম্নমানের মালামাল রিজেক্ট করলেও ধুরন্ধর মিজান কৌশলে সব বাধা থেকে উত্তোরনে সক্ষম হয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, রিজেক্ট করা মালামাল কখনো ফেরৎ পাঠায়নি ইঞ্জিনিয়ার মিজান। বরং একস্থানে রেখে দিয়ে রাতের আঁধারে নদীর এক পারের মালামাল অন্যপারে স্থানান্তর করে ফেরৎ পাঠানোর নাটক মন্থস্থ করা হয়েছে বারবার। উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের দায়িত্বরতরা জানান, গত সোমবার ঠিকাদারের ইঞ্জিনিয়ার মুচলেকা দিয়েও পুনরায় অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে ৩/৪ হাজার ২/৩ নম্বর ইটের চলমান কাজ বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা প্রকৌশলী নিম্নমানের ইট রিজেক্ট ঘোষণা করে সরিয়ে নিতে আদেশ করেন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে গিয়েও দেখা যায় ইট সরিয়ে নেয়নি। বরং সেখানে নতুন করে কয়েক টলি ইট ও খোয়া আনা হয়েছে। বাধার মুখে টলিগুলো রাস্তায় আটকে ছিল। একদল সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌছে নিম্নমানের ইট কাজের স্থানে দেখে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে মোবাইলে জানান।
এসময় ঠিকাদারের ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ওয়ার্ক ওর্ডার ও কাজের সিডিউলে কি আছে জানতে চাইলে তিনি কিছুই দেখাতে পারেননি। তার কাছে এগুলো দেওয়া হয়নি, তিনি দেখেনি বরং এসও কামরুল স্যার যেভাবে বলেন সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে বলে জানান। কাজের খোঁজ খবর নিতে গেলে এলাকার মানুষকে তোয়াক্কা না করা, রাজকীয় ভঙ্গিতে অপমান করা, উল্টো তার মাথার উপরে থাকা কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ও অজ্ঞাত ক্ষমতার দাপুটের হুংকারে অবদমিত করে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কিছুক্ষণ পরে ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌছে রিজেক্ট ইট দ্রুত সরিয়ে নিয়ে নতুন করে উন্নতমানের ইট এনে কাজ করতে নির্দেশ প্রদান করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের স্তুপ শুনে তিনি অনিয়ম করবেননা এমন অঙ্গীকার করার পর নতুন ভাল মালামাল দিয়ে কাজ করতে বলেন। সিডিউল মেনে কাজ করতে না পারলে কাজ করার দরকার নেই বলে তিনি ছাফ জানিয়ে দেন।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব জানান, ঠিকাদার ৫ আগষ্টের পর থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছে। আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর তার পক্ষে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক। আমরা বারবার সঠিক ভাবে কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তার জন্য আমরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বারবার নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার ও অনিয়ম করে আসছেন। সেখানে আমাদের প্রতিনিধি থাকলেও সবসময় তারাও বিব্রত বোধ করছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম জানান, কাজটা নিয়ে আমরা খুবই বিপাকে আছি। অনেকবার কমিটমেন্ট দিয়েও রক্ষা করেনি। রিজেক্ট মালামাল রাতে ফেলে রাখে এবং ভোরে কাজে ব্যবহার করে থাকে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমি এখনই উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে বলছি। ওখানে কাউকে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ