
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় দেবহাটায় এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী আকরাম-কালু বাহিনীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবহাটা ৮শ বিঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবক বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে অত্যন্ত সংকটাপূর্ণ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি দেবহাটার চালতেতলা এলাকার আব্দুল হালিমের পুত্র ওসমান হায়দার রনি (১৮)। তবে ঘটনার ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও তার চেতনা না আসায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে খুলনায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও পারিবারিক অস্বাচ্ছলতার কারনে সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়ে তার পরিবার।
আহত যুবকের পিতা আব্দুল হালিম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবহাটার ৮শ বিঘা ব্রীজ এলাকা থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী আকরাম-কালু নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী রনিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবগত করলে দেবহাটা থানা পুলিশ সাথে সাথে একটি টীম নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে আমার ছেলে রনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায়। ধারনা করা হচ্ছে রনিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে অমানুষিক মারপিট করে ওই আকরাম-কালু এবং তার সন্ত্রাসীরা। তাকে হত্যার পর গুম করার পরিকল্পনাও তাদের ছিলো। কিন্তু পুলিশের তৎপরতার কারনে সেটি সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, খলিষাখালীর বিতর্কিত জমি নিয়ে ওই সন্ত্রাসীদের আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ইতোপূর্বে একাধিকবার ওই আকরাম-কালু বাহিনী আমাকেসহ আমার সন্তানদের হত্যা করে গুম করে দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে আসছিল। তিনি অবিলম্বে ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন বলেন, গতকাল রাতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার ফোন পেয়ে ভুক্তভোগির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তার ছেলেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে মারপিট করছে। সাথে সাথে আমি একটি টীম তৈরি করে তাদের অভিযানে পাঠিয়ে দেই। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে রাত ১২টার দিকে সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আরএমও ফোন করে জানান সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবক পড়ে আছে। বিষয়টি ভুক্তভোগির পিতাকে জানালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে নিজের ছেলেকে নিশ্চিত করেন।
এঘটনায় দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বা যে কোন আইনী সহায়তার জন্য আসলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।