• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

মিয়ানমারে জান্তার ‘সাজানো’ নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু

রিপোর্টার: / ৯৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে জান্তা সরকারের আয়োজিত তিন ধাপের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণ আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) শুরু হয়েছে।

প্রায় মাসব্যাপী চলা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা আগেভাগেই সামরিক বাহিনী এবং তাদের মিত্রদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে দিয়েছে।

বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা সামরিক বাহিনী এখন এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের শাসনের বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমান সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সকালেই রাজধানী নেপিদোতে ভোট প্রদান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পার্লামেন্ট গঠনের পর তিনিই দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

তবে এই নির্বাচনকে শুরু থেকেই একটি ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলো। তাদের মতে, এই ভোটগ্রহণ কোনোভাবেই অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। জান্তা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ইতিমধ্যে প্রথম দুই ধাপের অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করেছে।

এছাড়া মিয়ানমারের সংবিধানে ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকায় পার্লামেন্টে তাদের নিয়ন্ত্রণ আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না এবং কোনো পর্যবেক্ষকও পাঠায়নি। তবে রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানের মতো দেশগুলো এই প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী ৮০ বছর বয়সি অং সান সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রধান বিরোধী দল ছাড়াই এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো। দেশটির ৩৩০টি জনপদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকায় কোনো ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

জান্তা সরকার প্রবর্তিত কঠোর নির্বাচনী আইনের কারণে জনসমক্ষে নির্বাচনের সমালোচনা করলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে চার শতাধিক মানুষকে এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ঘোষণা করা হতে পারে। সামরিক সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মার্চ মাসে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হবে এবং এপ্রিল মাস থেকে নতুন সরকার কার্যক্রম শুরু করবে।

সরকারি তথ্যমতে, এবার ভোটার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ, যা ২০২০ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম। যদিও অনেক এলাকা সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ভোটের আওতার বাইরে ছিল, তবুও জান্তা সরকার দাবি করেছে যে প্রথম দুই ধাপে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সব মিলিয়ে এই নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারে সামরিক শাসনের প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ