• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

লিবিয়ায় বাড়ির ভেতরে যেভাবে খুন হলেন গাদ্দাফির ছেলে

রিপোর্টার: / ৯৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লিবিয়ার প্রয়াত একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও আলোচিত পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি এক ভয়াবহ হামলায় নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে নিজের বাসভবনে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারজন সশস্ত্র বন্দুকধারী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। ঘাতকরা প্রথমে বাসভবনের নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দেয় এবং পরে বাগানে সাইফের মুখোমুখি হয়ে তাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

৫৩ বছর বয়সি সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সাইফকে ‘মুজাহিদ’ হিসেবে উল্লেখ করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

গাদ্দাফি পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন লিবিয়ার রাজনীতিতে আবারও ফেরার চেষ্টা করছিলেন সাইফ। তবে তার এই আকস্মিক প্রয়াণ লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাইফ আল-ইসলামের জীবন ছিল উত্থান-পতন আর নাটকীয়তায় ঘেরা। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাইফকে একসময় তার বাবার উত্তরসূরি এবং লিবিয়ার আধুনিকায়নের কারিগর হিসেবে দেখা হতো। পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন লিবিয়ার এক গ্রহণযোগ্য ও মার্জিত মুখ। তবে ২০১১ সালে বাবার শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। বিদ্রোহীরা ত্রিপোলি দখল করার পর তিনি মরুভূমি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় জিনতানে বন্দী হন।

পরবর্তী এক দশকের বন্দিজীবন ও অজ্ঞাতবাস শেষে ২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

২০২১ সালের নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল। একদিকে তার বাবার আমলের সমর্থকরা তার মধ্যে স্থিতিশীলতার আশা দেখছিলেন, অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তার ঘোর বিরোধিতা করে। তার ওপর ২০১৫ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থাকায় আইনি জটিলতায় তার নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছিল।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর লিবিয়ার ক্ষমতা কাঠামোয় তার প্রত্যাবর্তনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এই গুপ্তহত্যার মধ্য দিয়ে তার চূড়ান্ত অবসান ঘটল।

সূত্র: আল আরাবিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ