
নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেন গত ২৭/৪/২৬ ইং তারিখে স্বাক্ষরিত ৪৬.০২.০০০০.০০৭.২৭.০২৪.২৫.৩৯৯০ নং স্মারকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা দায়ের জন্য ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রকাশ্যে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তিনি অফিসের দাপ্তরিক টেবিলে বসে দু’জন ব্যক্তির নিকট থেকে অর্থ নিচ্ছেন। সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এমন অর্থ লেনদেনের ঘটনায় সচেতন হলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় এলজিইডি তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) বিধিতে বর্ণিত অসদাচরণ ও দুর্নীতি পরায়ণতার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হলো এবং ওই অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ১২(১) বিধি অনুযায়ী মোস্তাফিজুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
ওই অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৪(৩)(ঘ) বিধি অনুযায়ী কেন মোস্তাফিজুর রহমানকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে না অথবা একই বিধিমালার অধীনে অন্য কোন শাস্তি প্রদান করা হবে না তার ব্যাখ্যা সহ তাকে লিখিত জবাব পত্র, অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রাপ্তির ১০ কার্য দিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসের ঘুষ কেলেঙ্কারি ঠেকাতে অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ সহ প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক ঘুষ প্রদানকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে প্রত্যয়ন পত্র নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেও শেষ রক্ষা হলো না। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের (এলজিইডি) আলোচিত হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত ঠেকাতে অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণসহ নারি কেলেঙ্কারির মত গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও নিজের ঘুষ কান্ড ঠেকাতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সচিবদের নিকট থেকে প্রত্যয়ন পত্র নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ করতে দেখা গেছে দিনের পর দিন।
এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (প্রশাসন) পক্ষে গত ২৩/৪/২৬ ইং তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ৪৬.০২.০০০.০০১.১২০০৯.২৬.৩৭৭৩ নং স্মারকে মেহেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসের হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলামকে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে বদলি করা হলেও দুর্নীতিবাজ মহা ঘুষখোর মোস্তাফিজ তার বদলী ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে জোর তদ্বির শুরু করে।
হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে ঘুষ কান্ডের ভিডিও, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেলে খবর ভাইরালের পর গত ২০/৫/২৬ ইং তারিখে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট থেকে সুপারিশকৃত সাতক্ষীরার জেলা সদর, কলারোয়া উপজেলায় বদলির আবেদন পত্র স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট বদলির আবেদন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৫ সালের ২৫ মে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে (এলজিইডি) যোগদান করার পর সে সরকারি কোন বাসায় না থেকে উপজেলা ডরমেটরিতে থাকতো। ওই সময় উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের পল্লী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (এল সি এস) এক মহিলা কর্মীকে দিয়ে অফিসে ঝাড়ু দেওয়া, চা বানানো ও ধোয়া মোছার কাজ করানো হতো। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাকুরী খাওয়ার ভয় দেখাইয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ঐ এলসিএস কর্মী মহিলা যুবতীকে তার ডরমেটরির রুম পরিষ্কার করানোর জন্য প্রায় প্রতিদিন ফজরের আজানের পরে ভোরে তার রুমে ডেকে নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তোলে ডরমেটরির রান্নার বুয়াসহ বসবাসকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বিষয়টি নিয়ে ওই মহিলা কর্মীর কর্মকর্তা ও সহযোগীদের মধ্যে জানাজানি হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী ওই (এল জি এস )মহিলা কর্মীকে অফিস থেকে বের করে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অফিসের একটি গ্রুপ তাকে তাড়ানোর জন্য সব সময় মিথ্যা প্রবাকান্ডা ও চক্রান্ত চালিয়ে আসছে।
প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ করেছে আমি শুনেছি, বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব। তবে অফিসে গিয়ে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অফিসে বসে বিভিন্ন ঠিকাদার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিবদের নিকট থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বিলের জন্য প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি ছিল তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার ও ওপেন সিক্রেট । ঘুষ কান্ডে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন ও কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে এমন প্রশ্ন উঠে আসছে বারবার।
তবে হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান যেখানে চাকরি করেছেন ঘুষ কান্ড নিয়ে সেখানে সংবাদ শিরোনামসহ নানান আলোচনায় আলোচিত হয়েছেন। যে কারণে তাকে কোন জেলা, উপজেলার অফিসগুলো গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করতো। হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার এবং ২০ এপ্রিলে বিভিন্ন গণমাধ্যম, টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ফলাও ভাবে প্রচার, প্রকাশিত হলে টনক নড়ে মোস্তাফিজের।
ওই সময় সে তার বিভিন্ন স্বজনদের দ্বারা সুপারিশে ব্যর্থ হয়ে ২২ এপ্রিল তার অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নিয়ে খুলে অপসারণ করে ফেলে। যাতে করে পরবর্তীতে ঘুষ নেওয়ার কোন প্রমাণ না থাকে। এরপর তার বিরুদ্ধে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠলে নিজেই বদলি নাটক শুরু করে।