• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

সন্দেহ হলেই হোল্ডিং সেন্টারে আটক, পশ্চিমবঙ্গে নতুন নির্দেশ ঘিরে চাঞ্চল্য

রিপোর্টার: / ৫৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলার নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পাঠানো এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাদের অবৈধভাবে দেশে বসবাসের সন্দেহ হবে, তাদের আটক করে এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। পরে নাগরিকত্ব যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। গত শনিবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন বিদেশি বিষয়ক শাখা থেকে জেলাশাসকদের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং সব জেলার পুলিশ সুপারদের কাছেও নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের একটি নির্দেশনার আলোকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে হবে। সন্দেহভাজনদের আটক করে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। সেখানে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত নাগরিকত্ব যাচাই চলবে। ওই সময়ের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।‌

রাজ্যের একাধিক প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, আগে এ ধরনের আটক ব্যক্তিদের সাধারণ কারাগারে রাখা হতো। বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় সীমান্ত অতিক্রম করে ঢুকে পড়া বাংলাদেশি জেলেদের গ্রেফতারের পর জেলে পাঠানো হতো। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় কারাগারের পরিবর্তে আলাদা হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশ রোধে শনাক্ত, মুছে ফেলা ও ফেরত পাঠানোর নীতি কার্যকর করা হবে। তার পরপরই এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।‌

প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, এলাকায় সন্দেহজনকভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করবে পুলিশ। প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতেই তাদের আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হতে পারে। এরপর ওই ব্যক্তিকেই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ভারতের বৈধ নাগরিক। এ নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করার সুযোগ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষ ও সংখ্যালঘুদের হয়রানির আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।‌

অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করেই নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন এসেছে। নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন করে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কত দ্রুত হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হয় এবং এই অভিযানে কতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ