• আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

অন্ধকার গাড়িতে বৈঠক, সত্যিই মোজতবা খামেনি ছিলেন কিনা সন্দিহান পেজেশকিয়ান

রিপোর্টার: / ১৪০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এক অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও রহস্যময় বৈঠকের খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের এক গোপন স্থানে গাঢ় কালো কাচঘেরা একটি অন্ধকার গাড়ির ভেতরে পেজেশকিয়ানকে সর্বোচ্চ নেতার মুখোমুখি করা হয়, যেখানে তিনি নেতার মুখ দেখতে পাননি। এমনকি পরে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে জানতে চান, তিনি যে কণ্ঠ শুনেছেন সেটি সত্যিই সর্বোচ্চ নেতার ছিল কিনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র কয়েক মিনিটের এই কথোপকথন শেষে প্রেসিডেন্টকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের মধ্যে কুশল বিনিময় বা করমর্দন পর্যন্ত করতে দেননি। তবে মে মাসে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের এক অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান দাবি করেছিলেন, তিনি অত্যন্ত ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ মোজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন।

সূত্র উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, বারবার সাক্ষাতের আবেদন ও পদত্যাগের হুমকি দেওয়ার পর খামেনির দপ্তর থেকে এই বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়। তবে প্রথা ভেঙে সর্বোচ্চ নেতার সরকারি বাসভবনের বদলে এই অপ্রচলিত বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

পেজেশকিয়ানকে নিজের গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি বাণিজ্যিক ব্যান্ডের কালো কাচ ঘেরা গাড়িতে তোলা হয়, যার ভেতরে খামেনি আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। চারপাশ এতটাই অন্ধকার ছিল যে কেউ কাউকে দেখতে পাননি।

নিজের দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে এই সাক্ষাৎকে ‘অপমানজনক’ বলে বর্ণনা করেন পেজেশকিয়ান। পরবর্তীতে তিনি খামেনির বাসভবনে দ্বিতীয়বার সাক্ষাতের অনুরোধ করলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন যে, বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘অত্যন্ত কঠিন’ হয়ে পড়েছে। এএফপি-কে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব কঠিন, তবে যাই হোক, আমাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তার উপস্থিতি এক বিরাট শক্তির উৎস।’

তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী সর্বোচ্চ নেতা সম্পর্কে নেতিবাচক ও ভুল ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

এদিকে, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে নিজের প্রশাসনকে পুরোপুরি একঘরে করে ফেলা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পেজেশকিয়ান মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের চেষ্টা করেন।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিষয়ে খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে একটি ‘চূড়ান্ত আল্টিমেটাম’ দিয়েছেন এবং যুদ্ধ ও আলোচনা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।

‘চ্যানেল ১৪’-এর দাবি, খামেনির এই অবস্থান পেজেশকিয়ানের নীতি নির্ধারণী ক্ষমতাকে অত্যন্ত সীমিত করে ফেলেছে।

পাঁচ মাস ধরে অনুপস্থিত মোজতবা

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা বা শুনতে পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কেবল তার স্থিরচিত্র দেখিয়ে লিখিত বার্তা পড়ে শোনোনো হয়।

জুলাই মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘এই সময়ে আমি মোজতবা খামেনিকে দেখিনি, হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন তার দেখা পেয়েছেন।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনির প্রভাব বা অস্তিত্ব এখন ‘৯০ শতাংশই শেষ’। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের সেরা নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। খামেনি শেষ, আর তার ছেলেও ৯০ শতাংশ শেষ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ