
স্পোর্টস ডেস্ক: দেশের নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার অনুদান ফেরত নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। শনিবার ধানমন্ডি রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার কর্মকর্তারা এটাকে নারী ক্রীড়ার অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের বাধা হিসাবে উল্লেখ করেন। গত ৮ মে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকা উধাও শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে সংস্থাটির।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আর্থিক বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে সংরক্ষিত ২০ কোটি টাকার দুটি এফডিআর (স্থায়ী আমানত) ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বাফুফের টাকা উধাও হয়েছিল তাদের তহবিল থেকে। আর মহিলা ক্রীড়া সংস্থার টাকা গায়েব হয়েছে সোনালী ব্যাংক থেকে। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা
বলেন, ‘আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে, পিঠে ছুরি আর বুকে আঘাত করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদেরকে না জানিয়ে অনুদানের অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে, যা নারী ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।’
সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২০২২ সালে ১০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে আরও ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়। মোট ২০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় এফডিআর হিসাবে রাখা হয়েছিল। অনুদানের শর্ত অনুযায়ী, এফডিআরের সুদের ৮০ শতাংশ নারী ক্রীড়ার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করার কথা ছিল।
মহিলা ক্রীড়া সংস্থার দাবি, এফডিআর থেকে ইতোমধ্যে এক কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ পাওয়া গেছে। সেই অর্থ নারী খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের আগস্টের পর থেকে সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়, অনুদানের মূল অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে।
সভানেত্রীর অভিযোগ, অনুদান বাতিলের বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অনুদানের মূল শর্তেও অর্থ ফেরত নেওয়ার কোনো বিধান ছিল না। এতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তার আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রীড়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে।