
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বায়ার কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভের ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার করে প্রায় ৮০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন এক তরমুজ চাষী। চরম ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়ে পথে বসতে যাওয়া চাষী বড়দল ইউনিয়নের নড়েরাবাদ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে পবিত্র কুমার মন্ডল বৃহস্পতিবার কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
পবিত্র কুমার মন্ডলের বক্তব্য ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চলতি বছর চাম্পাখালি মৌজায় ৮০ বিঘা জমি বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা হারি নিয়ে তরমুজ চাষ করেন পবিত্র মন্ডল। গাছে ছোট-বড় ফল ধরা শুরু হলে পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার বিশ্বরুপ চন্দ্র ঘোষ (০১৯৯২ ৪৯২৫১৯) নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বায়ার ক্রপসায়েন্স লিঃ এর কৃষি পরামর্শ দাতা পরিচয় দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করে।
গত ১ মার্চ বিকালে বিশ্বরুপ নিজে তার ক্ষেতে এসে বলে আমি বায়ার কোম্পানির হেড অফিস যশোর থেকে এসেছি। আমি এ এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের তরমুজ ক্ষেতের পরিচর্যা করে থাকি। আমার কাছ থেকে ১২ দিন চিকিৎসা নিলে আপনার তরমুজ গাছ সম্পুর্ন সুস্থ্য থাকবে এবং আশানুরূপ ফল দিবে। বিশ্ব রুপের পরামর্শে ৭ এপ্রিল ৩টি প্রেসকিপসন অনুযায়ী বালাইনাশক ঔষধ কিনে সে ক্ষেতের সমস্ত গাছে প্রয়োগ করে। ৬/৭ দিন পরে তরমুজের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় সে বিশ্ব রুপের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অন্য কোন কোম্পানির ওষুধ প্রয়োগ করতে নিষেধ করেন। যেটা দিয়েছি আরও ১২ দিন প্রয়োগ করেন।
কিন্তু এরপর অধিকাংশ তরমুজ গাছ মরে যায়। এতে সে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে। পবিত্র মন্ডল এক প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা। এনজিও সহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ চাষে নেমে কৃষি অফিসের পরামর্শ না নিয়ে বিশ্বরূপের পরামর্শে সে পথে বসতে বসেছে। কৃষি অফিসের কথা শুনে ক্ষেতের পরিচর্যা করলে তার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার বেচা বিক্রি হতো।
প্রতারক বিশ্বরূপের কাছে বারবার যোগাযোগ করলে তিনি ক্ষতি পুরুনের ব্যবস্থা করে দেব বলে তাল বাহানা করে যাচ্ছেন। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া তার কোন উপায় নেই। বায়ার কোম্পানির ভুল পরামর্শ নিয়ে তার যে ক্ষতি হয়েছে সেটার ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষি অফিস সহ উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আশাশুনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।