• আজ- শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী-ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার কালিগঞ্জে শিশু নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগে মামলা: অভিযুক্ত আটক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কালিগঞ্জের এক ব্যক্তির মৃত্যু আশাশুনির মহেশ্বরকাটি মৎস্য সেটে ব্যবসায়ীর টাকা লোপাট দেবহাটা ও আশাশুনির শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার জাহানাবাজে ঘোড়দৌড় দেখতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি ট্রান্সফরমার চুরির ১৫ মাস পরও বিদ্যুৎহীন স্কুল দাবদাহে কষ্টে শিক্ষার্থীরা: জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ, উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো-দ. আফ্রিকা

এবার সামনে এলো বাবলা হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

রিপোর্টার: / ৮৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় প্রকাশ্যে গুলি করে সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া চারজনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে এই হত্যাকান্ডে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদকে প্রধান আসামি এবং আরও সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় খুনের শিকার সরোয়ার বাবলার বাবা আবদুল কাদের বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার ভোরে চান্দগাঁও থানার হাজীরপুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকান্ডে ‘সরাসরি জড়িত’ আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। বাবলার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘাতকরা ব্যবহার করে ৭.৬২ বোরের বিদেশি পিস্তল। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় কারা জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগকালে বাবলাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন।

মামলায় বিদেশে পলাতক দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তার বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডের প্রধান হিসাবে পরিচিত রায়হান আলমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলো-বোরহান উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও হেলাল ওরফে মাছ হেলাল। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ বা সাজ্জাদ আলীকে। মামলার এজাহারে বড় সাজ্জাদকে মূলহোতা বা পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরোয়ার বাবলা কিলিং মিশনে জড়িত চারজনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন পূর্ব রাউজানের বদিউল আলমের ছেলে রায়হান (৩৫), ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর গ্রামের মোহাম্মদ মুসার ছেলে মোবারক হোসেন ইমন (২২), নগরীর খুলশী সিডিএ পুনর্বাসন এলাকার খায়রুল আলমের ছেলে বোরহান (২৭) ও রাউজানের পরীর দিঘির পাড় এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. খোরশেদ (৪৫)। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন হত্যা মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম নগরীতে একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। দুই যুগ ধরে বিদেশে বসে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ। এক সময় শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বড় সাজ্জাদ ‘শিবির ক্যাডার’ হিসাবে পরিচিত। নগরীর পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী, বাকলিয়া, চকবাজার এলাকা থেকে জেলার হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তার পরিকল্পনায় নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলছে। তার নির্দেশে অপকর্মের মধ্যে মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি, বালুমহাল-ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ভবন নির্মাণে ইট-বালুসহ নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক আধিপত্য-সবই ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে। বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল ছোট সাজ্জাদ। গত ১৫ মার্চ পুলিশ ঢাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে সে কারাগারে রয়েছেন। এখন বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছে রায়হান। রায়হানের বিরুদ্ধে ১৪ মাসে ৯টি হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারপরও তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ।

মৃত্যু নিশ্চিত করতে ৭.৬২ পিস্তল দিয়ে গুলি

সরোয়ার হোসেন বাবলার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘাতকরা বিদেশি ৭.৬২ বোরের পিস্তল ব্যবহার করে। তাও আবার খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সরোয়ারকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। অস্ত্রের আকার ও আঘাত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি শক্তিশালী ৭.৬২ বোর পিস্তলের গুলি। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। প্রথম তিনটি গুলির পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বাবলা। পরে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি করে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনিরা।

আহত এরশাদ উল্লাহকে ঢাকায় প্রেরণ

গণসংযোগ চলাকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গুলিবিদ্ধ এরশাদ উল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাকে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তিনি বলেন, এরশাদ উল্লাহ ভাই বুকের ডান পাশে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এখন তিনি শঙ্কামুক্ত। পরিবারের সদস্যরা এবং আত্মীয়স্বজন আলোচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উনাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ