
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিগত ১ বছর যাবত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ঘুষ, কমিশন ও পার্সেন্টেজ আদায় করলেও তিনি রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমূলক প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা সেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ আদায় করে থাকেন।
টি আর, কাবিখা, কাবিটা, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রায় সব প্রকল্প থেকেই নিয়মিত ঘুষ নেওয়া হয় বলে জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন। কালভার্ট নির্মাণে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার নামে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো (সেতু/কালভার্ট) নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ্বরপুর গ্রামে সম্ভখালি খালের ওপর ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্পটি শ্যামনগর উপজেলার চেয়ারম্যান অসীম মৃধা পেলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কালিগঞ্জ উপজেলার সিয়াম এন্টারপ্রাইজের মালিক কাজটি কিনে নেন। বর্তমানে কাজটি চলমান রয়েছে। কালবোর্ড নির্মাণের কাজের জন্য মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুরের বিরুদ্ধে।
রাস্তা প্রকল্পেও একই চিত্র, গত অর্থবছরে গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে নলতা ইউনিয়নের ঝায়ামারি এলাকায় হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) পদ্ধতিতে ১২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণে ৭৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৫০ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। টেন্ডারে শ্যামনগর উপজেলার মেসার্স হাবিব এন্টারপ্রাইজ (প্রোপাইটার শাহানা ইয়াসমিন) কাজটি পায়।
অভিযোগ রয়েছে, এ প্রকল্প থেকেও প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। নিম্নমানের ইট, অপর্যাপ্ত বালি ও দায়সারা মাটির কাজের পাশাপাশি প্যালাসাইডিংয়ের জন্য সিমেন্টের খুঁটির পরিবর্তে এলভেস্টারের বেড়া ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় শাহীন, মামুন ও নজরুলসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
এভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, ঈদগাহ, কালভার্ট, রাস্তা ও সেতু নির্মাণ ও সংস্কারের নামে সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ তদারকি না থাকায় কালিগঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা নিজের পকেটে ঢোকাচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান।
তবে এব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।