• আজ- রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
দেবহাটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী-ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার কালিগঞ্জে শিশু নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগে মামলা: অভিযুক্ত আটক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কালিগঞ্জের এক ব্যক্তির মৃত্যু আশাশুনির মহেশ্বরকাটি মৎস্য সেটে ব্যবসায়ীর টাকা লোপাট দেবহাটা ও আশাশুনির শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার জাহানাবাজে ঘোড়দৌড় দেখতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি ট্রান্সফরমার চুরির ১৫ মাস পরও বিদ্যুৎহীন স্কুল দাবদাহে কষ্টে শিক্ষার্থীরা: জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: খুনিদের সঙ্গে চুক্তি হয় ১৫ লাখ টাকা

রিপোর্টার: / ৯২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করতে পেরেছে ডিবি পুলিশ। হত্যা মিশনে থাকা শাহীন কাজী (২৫) নামে আরো একজনকে আটকের পর এ তথ্য জানা গেছে।

শাহীন কাজী যশোর শহরের রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের লোন অফিস পাড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির বিপরীতে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে শাহীন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। বিচারক আছাদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় শাহীনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেফতার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (নিহতের জামাই) বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালে শাহিন কাজীর নাম জানান। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে গ্রেফতার হওয়া মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহিন কাজীর নাম প্রকাশ করেন। সে তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই অলক কুমার দে সোমবার (১২ জানুযারি) বিকালে লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে আটক করেন। যদিও তার স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে ডিবি পুলিশ বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায় শাহীনকে।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যার জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সাথে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করেন নিহতের জামাই আবেদ আলী পরশ। হত্যার কারণ হলো, শ্বশুর আলমগীর হোসেনের সাথে পারিবারিক বিরোধ। আর শ্বশুরের অনুপস্থিতিতে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হবেন পরশ। এ লক্ষ্যে এর আগেও ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে একবার হত্যা চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেবার গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আলমগীর হোসেনও বুঝতেও পারেননি যে তাকে গুলি করা হয়েছিল। এবার যাতে লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়, সে কারণে আটঘাট বেধে নামে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার দিন (৩ জানুয়ারি) বিকালে তারা যশোর শহরের শংকরপুর মেডিকেল কলেজের মাঠে মিটিংয়ে বসেন। আলমগীরকে চেনানো, তার পিছু নেওয়া, গুলি কে করবে এবং কোন পথ দিয়ে যাবে- সবকিছু মিটিংয়ে বসে পরিকল্পনা করা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, আলমগীর হোসেনকে খুন করতে খরচ ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা।  এই পুরো টাকার খরচ বহন করবেন পরশ। প্রথম দিন দেওয়া হবে ৫ লাখ টাকা। বিকালে পরশ এক লাখ টাকা এবং একটি পিস্তল তুলে দেন মিশুকের হাতে। বাকি ৪ লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার হিসাবে নেবেন পরশ। প্রিন্সের শাশুড়ি সম্প্রতি একটি জমি বিক্রি করেছেন। তার কাছে নগদ বেশ কিছু টাকা রয়েছে। প্রিন্সের কাজ তার শাশুড়ির কাছ থেকে ওই টাকা নিয়ে পরশের হাতে দেওয়া। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর রাতে পরশ ওই টাকা ভাগাভাগি করে সবাইকে দেবেন। বাকি ১০ লাখ টাকা সুবিধামতো সময়ে দেওয়া হবে বলে জানান পরশ। আর অস্ত্রটি পরশের নিজের। কিছুদিনের জন্য অস্ত্র সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবকে ধার দেয় পরশ। হত্যাকাণ্ডের পর ফের রাকিবের কাছেই চলে যায় অস্ত্র।

সূত্র জানিয়েছে, বিকালে মিটিংয়ে পরশ, আশাবুল ইসলাম সাগর, শাহীন কাজী, বেজপাড়ার অমি, শংকরপুরে রাকিব ওরফে ভাইপো রাকিবসহ ১০/১২ জন ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম মোটরসাইকেলে থাকবে অমিত ও শুটার মিশুক। পরের মোটরসাইকেলে থাকবে আরো দুইজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেল থাকবে তিনজন। অভিযানে নামবে মোট সাতজন।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে ঢোকেন; সে সময় তিন মোটরসাইকেল তার পিছু নেয়। ইসহাক সড়কে ঢুকতে আলমগীর হোসেন একটি দোকানে কিছু সময়ের জন্য দাঁড়ান। তারাও দাঁড়িয়ে যায়। একটি মোটরসাইকেল আগে চলে যায়। আলমগীর হোসেন যখন সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছাকাছি পৌঁছান, সেই সময়ে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি করেন মিশুক। এরপর চারজন দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত চলে যায় গোলপাতা মসজিদের দিকে। আর শাহীন গাজীকে বহন করা তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরিয়ে ফের বটতলার দিকে চলে যায়।

শাহীন কাজী আটক হওয়ার পর পুলিশ এ হত্যা মিশনের এরকম বর্ণনা পেয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আগে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শাহীন কাজী এই হত্যাকাণ্ডে অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ভাড়াটে খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তথ্য রয়েছে।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে জানিয়েছেন, শাহীন কাজী আটক হওয়ার পর বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার মূল মোটিভ উদ্ধার করা গেছে। এখন পুলিশের কাছে পরিষ্কার এ হত্যা মিশনে কারা ছিল। পুলিশ বাকি পলাতক আসামিদের আটকের চেষ্টা করছে। তবে, হত্যার জন্য যে ১৫ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট হয়েছিল- এটা ঠিক।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের মেয়ে জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক এবং সর্বশেষ শাহীন কাজী মিলিয়ে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ